কুড়িগ্রামে দুপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চিলমারী সীমান্তবর্তী চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের খেরুয়ারচর এলাকায় দীর্ঘদিনের জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, সীমানা কর্তন ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
এতে হরমুজ আলী (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এছাড়া উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহতদের উদ্ধার করে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার সকালে খেরুয়ারচর মৌজার নয়াহাট ইউনিয়নের উত্তর ফলুরচর ও পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঢুষমারা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গেছে, খেরুয়ারচর মৌজায় দীর্ঘ ৫৭ বছর ধরে ৯২ একর খাসজমি নিয়ে উত্তর ফলুরচর গ্রামের বানু শেখের ছেলে সেলিম রেজার সঙ্গে একই গ্রামের ওসমান ম্যানেজার, চান মিয়া, সামচুল ও নঈম উদ্দীনের মামলা-মোকদ্দমা ও বিরোধ চলে আসছিল। জমিটি নিয়ে ইতোপূর্বে গ্রাম, থানা, উপজেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে স্থানীয় মাতুব্বর ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা নথিপত্র পর্যালোচনা করে সেলিম রেজার পক্ষে রায় ঘোষণা করেন এবং তিনি ৫ একর ৪০ শতাংশ জমির প্রকৃত মালিক বলে জানান।
সেলিম রেজার পক্ষের লোকজনের অভিযোগ, ওসমান ম্যানেজার, সামচুল ও নঈম উদ্দীনের পক্ষে কোনো ৪০ ও ৬২ ধারার রেকর্ডপত্র না থাকা সত্ত্বেও তারা রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে চরাঞ্চলটি দখল করে রেখেছিল।
বৃহস্পতিবার বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে ওসমান ম্যানেজারের পক্ষের লোকজন অতর্কিতভাবে প্রবেশ করে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লুটপাট শুরু করে। এ সময় বানু শেখের ছেলে সেলিম রেজার লোকজন বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে লাঠিসোটা, দা ও কুড়ালসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এ সময় গুরুতর জখম হয়ে হরমুজ আলী (৫৫) ঘটনাস্থলেই মারা যান।
সংঘর্ষে সেলিম রেজা (৫০), মনির হোসেন (৫৫), রিয়াজুল (৩৫) ও আলীসহ (৫০) উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাদের রৌমারী হাসপাতালে নিয়ে যান।
রৌমারী হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, আহতদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢুষমারা থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, দুইপক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উভয়পক্ষ থেকেই মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
