জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতে জালিয়াতির অভিযোগ
Advertisement
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে নেত্রকোনা ও কলমাকান্দা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ওই দিন বিকালে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে গ্রেফতার দুজনসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে কলমাকান্দা থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার ধারিয়া গ্রামের আনিছ মিয়ার ছেলে কাঞ্চন মিয়া (২৯) এবং শেরপুর সদর উপজেলার দড়িপাড়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে মঞ্জুরুল মিয়া।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান (৬৪), নেত্রকোনা সদর উপজেলার মো. আরিফ মিয়া (৩৪), ময়মনসিংহের স্মরণ সরকার হীরা (৩০) এবং কলমাকান্দার ওমর আলী (৪৯) ও মোকসেদ আলী (৪৪)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম দায়িত্বে থাকাকালে কামরুল হাসান নামের এক ব্যক্তির ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আপত্তি ওঠে। বিষয়টি তদন্তের জন্য গত ২৯ মার্চ ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নোটিশ পাঠানো হয়। পরে ৩১ মার্চ সরেজমিনে তদন্ত করা হয়।
এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগে ও পরে কয়েকজনের ভোটার নিবন্ধনের কাগজপত্রে অসংগতি পাওয়া যায়। তাওয়াসিন আরাফাত, মো. জিন্নাহ ও মো. সিদ্দিকের অনলাইন নিবন্ধন ফরমের দ্বিতীয় পাতায় অন্য ভোটারের ফরম ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া স্বাক্ষরসংবলিত কাগজসহ বিভিন্ন নথি জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধনের প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার অভিযোগও করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১ জুলাই নির্বাচন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া মো. জিন্নাহ এবং ১৪ জুলাই মো. সিদ্দিক ও তাওয়াসিন আরাফাতের ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ নেওয়া ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন সার্ভারে তথ্য আপলোড করা হয়। একই বছরের ২০ জুলাই নূর হালিমা ও মুজিবুর রহমানের ছবি তোলা হয়। তাদের নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে মুজিবুর রহমানের ফরম অনলাইনে পেন্ডিং অবস্থায় ছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ আগস্ট রাতে অজ্ঞাতনামা কর্মচারীরা সংশ্লিষ্ট তথ্য আপলোড করেন। পরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা যাচাইয়ের সময় কয়েকজনের তথ্যের অসংগতি ধরা পড়ে। এরপর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঠিকানায় গিয়ে যাচাই-বাছাই করেন। এতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০ জুলাইয়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নির্বাচন কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে নূর হালিমা ও মুজিবুর রহমানের ছবি তোলার ঘটনায় কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. মঞ্জুরুল মিয়ার বিরুদ্ধেও ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততা এবং ২৯ জুলাই সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট হওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
কলমাকান্দা থানার ওসি মো. সোহেল রানা দুজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাদের আদালতে পাঠানো হবে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

-6aca23051166b.jpg)