কলেজছাত্র রোহান হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩
Advertisement
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
কলেজছাত্র রোহান হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩ আসামি। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর চৌধুরী ফুয়াদ হাসান ওরফে রোহান হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, গামছা, কালো টি-শার্ট ও নিহতের স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ দল সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
পরে দুপুর ১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।
মীর মনির হোসেন বলেন, রোহানের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রেফতাররা হলেন—দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), মো. রিয়াজ সরদার (২৩) ও একই ইউনিয়নের সমেসপুর এলাকার মো. শরীফ (২৭)।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, গত ৫ই অক্টোবর বিকাল ৪টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরদিন ৬ অক্টোবর তার পরিবারের পক্ষ থেকে রাজবাড়ী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরবর্তীতে গত ৮ই অক্টোবর বিকাল ৫টার দিকে সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রোহানের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এ ঘটনায় রোহানের বাবা মো. ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাতে জানানো হয়, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে রোহানকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয় বলে দাবি পুলিশের। লাশ পানিতে ভেসে উঠা ঠেকাতে পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে আলামত নষ্ট ও লাশ গুমের উদ্দেশে বস্তাবন্দি করে ডোবার পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে ছুরি ও গামছা এবং মো. রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে একটি কালো টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার বিনয় কুমার দাসের পুকুরের কচুরিপানার মধ্যে থেকে রোহানের পরিহিত স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ এসব আলামত জব্দ করেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

