কুকুরের আতঙ্কে ঘরছাড়া হতে ভয় শিশুদের, ৩ দিনে আক্রান্ত ৬৮
Advertisement
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
গত এক বছরে উপজেলায় কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৫২৭ জন।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রোগাক্রান্ত ও বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহর ও আশপাশের এলাকায়। গত তিন দিনে কুকুরের কামড়ে ৬৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই স্কুলগামী শিক্ষার্থী। শহরের বিভিন্ন সড়ক ও পাড়া-মহল্লায় দলবেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেওয়ারিশ কুকুর। এতে শিশু ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে উপজেলায় কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৫২৭ জন। এ ছাড়া বছরে প্রায় এক হাজার গরু ও তিন হাজার ছাগল কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছে। জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে বছরে প্রায় ২০০ ছাগল ও অর্ধশত গরুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর ‘একসঙ্গে আরও শক্তিশালী’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত হলেও গৌরীপুরে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর ভার্ট জানান, গত নয় মাসে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন ২১২ জন। এক দিনে একাধিক ব্যক্তিকে কুকুরের কামড় দেওয়ার ঘটনা উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, মানুষ ও গবাদিপশুর পাশাপাশি কুকুর-বিড়ালের জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বৃহস্পতিবার একটি কুকুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় এলাকা, বন বিভাগ, আর.কে. হাইস্কুল সড়ক, নয়াপাড়া, খেলার মাঠ, কলাবাগান ও নিমতলী এলাকায় ১১ জনকে কামড় দেয়। তাদের মধ্যে সাতজন শিশু, দুজন নারী ও দুজন বয়স্ক পথচারী ছিলেন। আক্রান্ত ব্যক্তিরা জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিয়েছেন। কুকুরের ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী একা স্কুলে বা প্রাইভেট পড়তে যেতে সাহস পাচ্ছে না।
গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী সানজানা আক্তার বলেন, কুকুরের ভয়ে একা স্কুলে বা প্রাইভেট পড়তে যেতে পারছি না।
মাওহা ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামের আবুল হাসিম জানান, তাদের এলাকায় এক দিনে কুকুরের কামড়ে আটজন আক্রান্ত হয়েছেন। একই ইউনিয়নের বাউশালীপাড়ায় শেয়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন আরও তিনজন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক রাজেন্দ্র দেবনাথ জানান, শনিবার বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ১০ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
চিকিৎসক ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, কুকুরের কামড়ের পর ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান ও প্রবহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুতে হবে। এরপর দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে গিয়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।
গৌরীপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসান জাকির জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে কুকুরকে টিকা দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ শিহাব উদ্দিন আরও জানান, জনস্বাস্থ্য, প্রাণিকল্যাণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জলাতঙ্ক নির্মূলে জাতীয় কুকুর পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন এবং সমন্বিত কুকুর ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গ্রহণের জন্য গত ১ জুলাই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়িত হলে কুকুর ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

-6aca321e8e6c3.jpg)