আধিপত্য নিয়ে দুইপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৩৫
Advertisement
কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় আধিপত্য বিস্তার, বিএনপির সম্মেলনে সমর্থন দেওয়া নিয়ে বিরোধ ও মাছ পরিবহণকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষ ঘটে।
আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ওয়ার্ড বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইফরান মিয়ার সঙ্গে সুনু মিয়া ও শাকিল পক্ষের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই স্থানীয় মৎস্যচাষি আব্দুর রহমান ওরফে ইয়ারখানের মাছ পরিবহণ নিয়ে সুনু ও শাকিল পক্ষের সঙ্গে নতুন বিরোধ দেখা দেয়। এ বিরোধে ইফরান মিয়া মৎস্যচাষি আব্দুর রহমানের পক্ষ নেওয়ায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
সুনু মিয়ার পক্ষের লোকজনের অভিযোগ, বুধবার সকালে সুনু মিয়া স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইফরান মিয়ার লোকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হন।
সংঘর্ষে সুনু মিয়ার পক্ষের গুরুতর আহতরা হলেন—বাবুল মিয়া, কাঞ্চন মিয়া, সোহেল মিয়া, সৃজল হক, বকুলা আক্তার ও বাচ্চু মিয়া। অপরপক্ষের গুরুতর আহতরা হলেন—নজরুল ইসলাম, সাইকুল ইসলাম ও দেলোয়ার মিয়া। বাকিদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে সুনু মিয়া বলেন, ওয়ার্ড বিএনপির সম্মেলনের সময় আমরা ইফরানকে সমর্থন না করায় তাদের সঙ্গে বিরোধ শুরু হয়। এর মধ্যে আব্দুর রহমান গ্রামীণ কাঁচা সড়ক দিয়ে মাছ পরিবহণের জন্য ভারি ট্রাক ব্যবহার করায় রাস্তা নষ্ট হচ্ছিল। গ্রামবাসী এতে বাধা দিলে ইফরানের লোকজন আব্দুর রহমানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায়।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুর রহমানের ছেলে আল মামুন বলেন, আমরা কয়েকটি পুকুরে মাছ চাষ করেছি। মাছ নেওয়ার জন্য বড় গাড়ি প্রবেশে সুনু ও শাকিল পক্ষের লোকজন বারবার অন্যায়ভাবে বাধা দেয়। পরে ছোট গাড়ি আনতে চাইলেও তারা বাধা দিয়ে আমাদের বিপুল আর্থিক ক্ষতি করে এবং উল্টো বিরোধ সৃষ্টি করে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ইফরান মিয়া মোবাইল ফোনে বলেন, সংঘর্ষের এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত কিছুই জানি না।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়নি। বিষয়টি স্থানীয় পেমই পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা তদারকি করছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পেমই তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই বাবুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
