মোবাইল ফোন নিতে ফিরে আসাই কাল হলো লুৎফুজ্জামানের
Advertisement
কামাল হোসাইন, নেত্রকোনা
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে তেলনজিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ির পাশেই একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান। এরপর তিনি বিরিশিরি-উতরাইল বাজারের দিকে যাওয়ার জন্য দোকান থেকে বের হন।
কিছুটা পথ এগোনোর পর বুঝতে পারেন, নিজের মোবাইল ফোনটি দোকানে ফেলে এসেছেন। প্রায় তিন মিনিট পর ফোনটি নিতে আবার দোকানে ফিরে আসেন তিনি।
চা-দোকানি রবিন রাংসা জানান, লুৎফুজ্জামান মোবাইল ফোন নিয়ে দোকান থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে দুই যুবক সেখানে আসে। তারা প্রথমে সিগারেটের কথা বলে সময়ক্ষেপণ করে এবং মুহূর্তের মধ্যে লুৎফুজ্জামানকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে।
রবিন রাংসা বলেন, আমি তখন চায়ের কাপ ধুচ্ছিলাম। লুৎফুজ্জামান চা খেয়ে যাওয়ার সময় ফোন ফেলে যাওয়ায় আবার ফিরে আসেন। ফোন নিয়ে বের হওয়ার সময় দুই যুবক এসে আমার কাছে সিগারেট চায়। এরপরই তারা লুৎফুজ্জামানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আমি পরপর চারটি গুলির বিকট শব্দ শুনি। আতঙ্কে আমি দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই যুবকের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর। একজনের পরনে ছিল লুঙ্গি, অন্যজনের পরনে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট। অত্যন্ত কাছ থেকে লুৎফুজ্জামানকে নিশানা করে গুলি চালানো হয়। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় লুৎফুজ্জামানকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামীণ সড়কের পাশে একটি বাড়ির বারান্দায় চায়ের দোকানটি। দোকান থেকে লুৎফুজ্জামানের শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব মাত্র ৩০ থেকে ৫০ গজ। মাঝখানে কেবল চারটি ঘর। ঘটনার পর পুরো এলাকায় এক ভৌতিক নীরবতা নেমে এসেছে। শ্বশুরবাড়িতে তখন স্বজনদের বুকফাটা আহাজারি। তেলনজিয়া গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দাই গারো সম্প্রদায়ের।
লুৎফুজ্জামানের ফুফুশাশুড়ি নিরালা রেমা ও রুলি রেমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তারা ঘরের বারান্দায় বসে গল্প করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ পেয়ে দোকানের কাছে ছুটে গিয়ে লুৎফুজ্জামানের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার মাথা, গলা ও বুক থেকে রক্ত ঝরছিল। ছেলেটা সবাইকে খুব শ্রদ্ধা করত এবং এলাকায় সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকত।
পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক বিশেষ ইউনিট মাঠে নেমেছে। ঘটনাস্থল থেকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জের পিস্তলের গুলির খোসা ও একটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর জেলার সব প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘাতকদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
