সাংবাদিককে ফেসবুকে হেনস্তা, সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা
Advertisement
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানহানিকর বক্তব্য ও ভিডিও প্রচার করে এক সাংবাদিককে হেনস্তা ও সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বিল্লাল মেম্বারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আলমগীর হোসেন গত ১৩ অক্টোবর বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযুক্ত বিল্লাল উপজেলার সাতগাঁও গুচ্ছগ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে।
অন্যদিকে মামলার বাদী আলমগীর হোসেন জাতীয় দৈনিক 'ভোরের দর্পণ' পত্রিকার বিজয়নগর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন বিজয়নগরে একটি ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামিকে গ্রেফতারের খবর প্রকাশ করেন সাংবাদিক আলমগীর হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই চান্দুরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বিল্লাল মেম্বারের ইন্ধনে আলমগীরকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আপত্তিকর প্রচারণা ও মানহানিকর বক্তব্য ছড়ানো শুরু হয়।
সাংবাদিক আলমগীর হোসেনের দাবি, অভিযুক্ত বিল্লালের প্ররোচনায় এলাকায় একটি মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়, যেখানে সরাসরি তার নাম উল্লেখ করে বক্তব্য দেওয়া হয়। এমনকি তার কর্মস্থলেও হামলার চেষ্টা চালায় একদল দুর্বৃত্ত।
আলমগীর আরও অভিযোগ করেন, ধর্ষণচেষ্টা মামলার মূল ভুক্তভোগীর শাশুড়িকে একটি কক্ষে আটকে রেখে জোরপূর্বক তার (সাংবাদিকের) নাম বলার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে ওই ঘটনার একটি ভিডিও এডিট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
দীর্ঘ প্রায় চার মাস ধরে ঘটনার মূল ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও ডিজিটাল এভিডেন্স সংগ্রহের পর গত ১৩ অক্টোবর আইনের শরণাপন্ন হন সাংবাদিক আলমগীর। এছাড়াও বিল্লাল মেম্বারের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন গ্রুপিং তৈরি, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, অর্থ লেনদেনে জালিয়াতি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা পরিবর্তন সংক্রান্ত কাজে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিল্লাল আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও পটপরিবর্তনের পর নিজের অবস্থান বদলেছেন। সাংবাদিক আলমগীর হোসেন বলেন, বিল্লালের গোপনে উসকানি দেওয়ার প্রমাণ রয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। অভিযুক্ত বিল্লাল মেম্বার বলেন, তদন্তের জন্য এলাকায় মানুষ আছে।
চান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষ তার কাছে গেলে তিনি স্থানীয়ভাবে বসে একটি সুষ্ঠু সমাধান করে দেবেন।
