ফজরের নামাজের পর হাঁটতে গিয়ে বাঁচলেন দুই বান্ধবী, প্রাণ গেল মুক্তার
Advertisement
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৫ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফজরের নামাজের পর সৈকতে হাঁটতে বের হয়েছিলেন দুই বান্ধবী। আরেক বান্ধবী তখনো ঘুমে। বাইরে থেকে ফিরে তারা দেখলেন, যে রিসোর্টে একসঙ্গে রাত কাটিয়েছেন, সেখানে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। ভেতরে রয়ে গেছেন তাদের শৈশবের বন্ধু নাসরিন আক্তার মুক্তা। চিৎকার করে তাকে উদ্ধারের আকুতি জানালেও শেষ পর্যন্ত বাঁচান যায়নি মুক্তাকে। কক্সবাজারে বেড়াতে এসে এক রাতের ব্যবধানেই দুই বান্ধবীর জীবন বেঁচে গেল, আরেকজনের জীবনে নেমে এল চিরবিদায়।
গত বৃহস্পতিবার শৈশবের তিন বান্ধবী আইরীন জাহান মীম, ইসরাত জাহান ইমা ও নাসরিন আক্তার মুক্তা কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। ওঠেন উখিয়ার ইনানী এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে। শনিবার ভোরে ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয় দেখতে বাইরে বের হন মীম ও ইমা। মুক্তাকেও সঙ্গে যেতে বলেছিলেন তারা। কিন্তু ঘুম পাচ্ছে বলে রুমেই থেকে যান তিনি।
কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দুই বান্ধবী দেখেন, রিসোর্টে আগুন জ্বলছে। ভেতরে মুক্তাসহ অন্যরা আটকা পড়েছেন—এ কথা জানিয়ে চিৎকার করতে থাকেন তারা। কিন্তু আগুনের হাত থেকে বান্ধবীকে আর বাঁচাতে পারেননি।
শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মুক্তার লাশ শনাক্ত করা যায়নি। খবর পেয়ে ঢাকা থেকে বিমানে কক্সবাজারে পৌঁছান তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। স্ত্রীর লাশ শনাক্তের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
আইরীন জাহান মীম গণমাধ্যমকে জানান, ফজরের নামাজের পর তিনি ও ইমা বাইরে যাওয়ার সময় মুক্তাকেও ডাকেন। কিন্তু মুক্তা তাদের চলে যেতে বলে নিজে রুমে ঘুমাতে থাকেন।
মীম জানান, কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে তিনি ও ইমা রিসোর্টের সামনে ফিরে এসে আগুন দেখতে পান। তখন তারা চিৎকার করে সবাইকে সতর্ক করতে থাকেন। ভেতরে তাদের বান্ধবী রয়েছেন জানিয়ে দ্রুত উদ্ধারের অনুরোধ করেন। রিসোর্টের কেয়ারটেকার আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুক্তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে আসেন দেওয়ান ফয়সাল। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মুক্তার মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। ফয়সালের বিশ্বাস, অন্য কেউ চিনতে না পারলেও তিনি স্ত্রীকে দেখে চিনতে পারবেন।
আগুনে মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় নিহত কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। মরদেহগুলো এতটাই পুড়ে গেছে যে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সেগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
