কুয়াকাটার তিন শতাধিক হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তার বেহাল দশা, ছাড়পত্র আছে একটির!
Advertisement
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুয়াকাটায় সমুদ্রসৈকতের কাছাকাছি আবাসিক হোটেলে রাত কাটান হাজারো পর্যটক। কক্ষের ভাড়া, সুযোগ-সুবিধা ও সৈকতের দূরত্ব বিবেচনা করে হোটেল বেছে নিলেও আগুন লাগলে বের হওয়ার পথ কোথায়, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কার্যকর কি না কিংবা জরুরি বহির্গমনের ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা অনেকেরই অজানা।
অথচ ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটনকেন্দ্রটিতে তিন শতাধিক আবাসিক হোটেলের মধ্যে প্রেসিডেন্ট পার্ক ছাড়া অন্য কোনো হোটেলের অনাপত্তি ছাড়পত্র নেই।
সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির পর কুয়াকাটার হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অধিকাংশ হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। তবে হোটেলগুলোতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, আগুন শনাক্তকরণব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমনপথ ও প্রশিক্ষিত কর্মী কতটা রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি।
মাদারীপুর থেকে পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় বেড়াতে এসেছেন পর্যটক ও ব্যবসায়ী রাকিব হাসান। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে আবাসিক হোটেল কানসাইনে কথা হয় তার সঙ্গে। রাকিব বলেন, হোটেলে ওঠার সময় কক্ষের ভাড়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সুযোগ-সুবিধা দেখা হয়। কিন্তু আগুন লাগলে বের হওয়ার পথ কোথায়, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র আছে কি না, এসব সাধারণত খেয়াল করা হয় না।
ঢাকা থেকে আসা একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা শারমিন আক্তার উঠেছেন হোটেল মারওয়াহতে। তিনি বলেন, পরিবার নিয়ে হোটেলে থাকলে নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। রাতে আগুন লাগলে শিশুদের নিয়ে কীভাবে বের হবেন, তা আগে থেকে জানা দরকার। কক্ষ বা করিডরে জরুরি নির্দেশনা থাকলে ভালো হয়।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল ফরাজী বলেন, ভবনের ধরন ও উচ্চতা অনুযায়ী অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা রাখতে হবে। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের পাশাপাশি বাধামুক্ত সিঁড়ি, জরুরি বহির্গমনপথ, জরুরি আলো ও নিরাপদ বৈদ্যুতিক সংযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজনীয় তদারকির অভাবে কুয়াকাটার বেশির ভাগ আবাসিক হোটেলে এসব ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। হোটেলকর্মীদের আগুন নেভানো ও জরুরি পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণও প্রয়োজন।
কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল কানসাই ইন-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী নূরুল আমীন বলেন, আমাদের হোটেলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রয়েছে। তবে নিয়মিত পরীক্ষা ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
আবাসিক হোটেল সাগরের মালিক মাসুদ পারভেজ সাগর বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোটেল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। শুধু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কিনে রাখলেই হবে না, সেগুলো কার্যকর কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, বেশির ভাগ আবাসিক হোটেল তাদের অ্যাসোসিয়েশনের বাইরে। তবে সব হোটেল কর্তৃপক্ষকে সচেতন ও সতর্ক করার পাশাপাশি কর্মীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস সহযোগিতা করতে পারে।
কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাহাদাত হোসেন বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেলে আমরা তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও নির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করি। তবে হোটেলগুলোর তদারকির দায়িত্ব আমাদের স্টেশনের নয়। এ কাজ পটুয়াখালী থেকে করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কুয়াকাটায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক সাব্বির আহমেদ বলেন, কুয়াকাটায় তিন শতাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে। জানা মতে, প্রেসিডেন্ট পার্ক ছাড়া অন্য কোনো আবাসিক হোটেলের অনাপত্তি ছাড়পত্র নেই।
পটুয়াখালী জেলা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবুল বাসার বলেন, হোটেলগুলোকে সতর্ক করার পাশাপাশি নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে ম্যাজিস্ট্রেট চাওয়া হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট পাওয়া গেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, অনুমোদনবিহীন ভবন নির্মাণে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

-6ad4dcdc2057a.jpg)