মাগুরায় গুলিতে যুবদল নেতা নিহত
Advertisement
মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাগুরায় যুবদল নেতা সাকের হোসেনকে মাথার পেছনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকান্ডে দুইজন অংশ নেন। তারা ঘটনার সময় সাইলেন্সার পাইপবিহীন একটি মোটরসাইকেল চালু রাখায় পার্শ্ববর্তী এলাকার কেউ গুলির শব্দ শুনতে পায়নি।
বুধবার ভোরে মাগুরা বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারের ভেতরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাকের হোসেন। শহরের পারনান্দুয়ালি গ্রামের মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে সাকের ওই কাউন্টারে কাউন্টার মাস্টার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিলেন।
সাকেরের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাকের প্রতিদিন ভোর ৫টার আগে কাউন্টারে যায়। দুপুর ১২ টা পর্যন্ত তার কাজ। বুধবার ভোর ৫টার দিকে তিনি কাউন্টারে পৌঁছান। সেখানে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৫টার দিকে কাউন্টারে একাই বসে ছিলেন সাকের। এমন সময় একটি মোটরসাইকেলে দুইজন কাউন্টারের সামনে এসে দাঁড়ায়। সাইলেন্সার পাইপ না থাকায় মোটরসাইকেল থেকে বিকট শব্দ হচ্ছিল। ওই মোটরসাইকেল চালকের পেছনে বসে থাকা একজন কাউন্টারের ভেতরে ঢুকে গুলি করে। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
মাগুরা রয়েল কাউন্টারের মালিক বিপুল কুমার দাস বলেন, দূর্বৃত্তদের একজন মোটরসাইকেলটির স্টার্ট চালু রাখায় বিকট শব্দ হচ্ছিল। এ সময় কাউন্টারে ঢুকে গুলি করলেও আশেপাশের কেউ বুঝতে পারেনি। ঘটনার আগে ঢাকাগামী একজন নারী যাত্রী কাউন্টারে ঢুকলেও গাড়ি আসতে দেরি হচ্ছে দেখে তিনি পাশের বাথরুমে যান। সেখান থেকে ফিরে কাউন্টারে তিনি সাকেরকে টেবিলে মাথা রেখে পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি স্ট্রোক করেছেন হয়ত এমন ধারণা করে এ সময় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিহত যুবদল নেতা সাকেরের মাতা গোলাম জাহিদ বলেন, ডাক্তার মৃত ঘোষণা করলে আমরা লাশ নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসি। স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়েছে এমন ধারণা ছিল আমাদের। আমরা বাড়িতে ফিরে লাশ গোসলের আয়োজন করছি। এমন সময় মাথার পেছন থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। পরে সেখানে বড় ক্ষত দেখে মৃত্যু অস্বাভাবিক বুঝতে পেরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
তবে কী কারণে এই হত্যাকান্ড কিংবা কারা এ হত্যাকান্ডে অংশ নিয়েছে সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি সাকেবের পরিবার কিংবা পুলিশ।
মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, প্রথমে জানা যায় স্ট্রোক কিংবা হার্ট অ্যাটাকজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে মাথায় ক্ষত দেখা দিলে লাশ মর্গে পাঠানো হয়। ইতোমধ্যে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি তদন্ত কার্য শুরু করেছে। এই মৃত্যুর ঘটনায় কারা জড়িত সেই বিষয়টি নিশ্চিত হতে বিভিন্নভাবে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
