রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় কমিয়ে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী
Advertisement
কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় কমিয়ে সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
তিনি বলেছেন, পৃথিবীর সব দেশেই সম্পদ সীমিত, বাংলাদেশের সম্পদ আরও সীমিত। তাই বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সম্পদের ব্যবহার সাশ্রয়ী করতে পারলে সম্মিলিতভাবে বড় ধরনের সাশ্রয় সম্ভব হবে। আর সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার টিঅ্যান্ডটি এলাকায় কালাই উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ আয়োজনে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত জীবনে সহজ-সরল জীবনযাপন করেন এবং রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় চান না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় দাপ্তরিক কাজ করেন। রাতে অফিস করার সময় অপ্রয়োজনীয় বাতি বন্ধ রাখা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রাখার মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের চেষ্টা করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামান্য করে সাশ্রয় করলেও সম্মিলিতভাবে তা বড় সাশ্রয়ে পরিণত হতে পারে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় কমাতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সব ক্ষেত্রে সচেতনতা প্রয়োজন।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলো রাস্তাঘাট, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির ভেতরে-বাইরে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রত্যেককে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, অফিস, হাটবাজার ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু প্রশাসনের ওপর পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব ছেড়ে দিলে চলবে না। সপ্তাহে এক দিন প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিতভাবে নিজেদের এলাকা পরিষ্কার রাখতে হবে। ডোবা, নালা, ড্রেন ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখলে মশা-মাছির উপদ্রব কমানোর পাশাপাশি পরিবেশও স্বাস্থ্যকর রাখা সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে এক দিনের আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখলে চলবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার বা ইতিবাচক-নেতিবাচক আলোচনা যা-ই হোক না কেন, বাস্তবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। নিয়মিত উদ্যোগ ও মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এর সুফল পাওয়া সম্ভব।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে যাচ্ছেন এবং অপরিচ্ছন্ন স্থান পরিষ্কারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছেন। এ ধরনের উদ্যোগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক মো. আল মামুন মিয়া।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী নাজমা আরা, কালাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ-আল-মাহবুব, কালাই পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম সাইফুল ইসলাম, কালাই সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নাজিম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন, উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যক্ষ তাইফুল ইসলাম ফিতা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মৌদুদ আলম, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাজ্জাদুল ইসলাম তালুকদার সোহেল ও যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলিম সরকারসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
