ছেলে কৃষি কর্মকর্তা, বাবা পেলেন সারের ডিলারশিপ
Advertisement
হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছেলের প্রভাবে বাবাকে সারের ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নে ‘মেসার্স আইমান এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুল বাতেন, যার ছেলে মোহাম্মদ দাউদ একই উপজেলায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষি বিভাগে ছেলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার সুবাদে প্রভাব খাটিয়ে ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে ডিলারশিপটি বাগিয়ে নিয়েছেন আব্দুল বাতেন। একই উপজেলায় কর্মরত কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় সার ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে প্রভাব খাটানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদ। তিনি দাবি করেন, অনেকে আবেদন করেছিলেন, অনেকের হয়নি। আমার বাবার কাগজপত্র নিয়ম অনুযায়ী ঠিক থাকায় তিনি মনোনীত হয়েছেন। তিনি একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি ও নিজের ওপর নির্ভরশীল। আমি একটি ছোট পদে চাকরি করি, নিয়োগকর্তা নই। উপজেলা, জেলা ও সচিবালয় পর্যায়ের যাচাই-বাছাই শেষে এ নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে। এতে আমার কোনো ভূমিকা বা হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
একই বিষয়ে মো. আব্দুল বাতেন বলেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সব ধরনের প্রয়োজনীয় ও বৈধ কাগজপত্র জমা দিয়েই আমি প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছি। কাগজপত্র যাচাই করেই আমাকে নির্বাচিত করা হয়েছে, এখানে ছেলের প্রভাব খাটানোর কোনো বিষয় নেই।
বিষয়টি নিয়ে হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
অন্যদিকে নোয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশীষ কুমার কর জানান, ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ এসেছে।
তিনি বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এখনো কারও সঙ্গেই চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদন করা হয়নি। প্রাপ্ত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের মনোনয়ন বাতিল করা হবে।
উল্লেখ্য, হাতিয়ায় সার ডিলার নিয়োগ ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। এর আগে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার গুদাম না থাকা সত্ত্বেও ‘মেসার্স ওয়াসিম এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী মো. আক্তার হোসেনকে ডিলার করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনির উদ্দিন।
নীতিমালা অনুযায়ী ডিলারের গুদামের ন্যূনতম ধারণক্ষমতা ২৫ মেট্রিক টন হতে হবে। অথচ উপজেলা প্রকৌশলীর প্রত্যয়নপত্র অনুযায়ী প্রস্তাবিত গুদামটির আয়তন মাত্র ৩২২ বর্গফুট (দৈর্ঘ্য ২৩ ফুট ও প্রস্থ ১৪ ফুট), যা নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।
ধারাবাহিকভাবে একাধিক ইউনিয়নে এমন অনিয়মের তথ্য সামনে আসায় পুরো উপজেলার সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
