কমেছে কলার দাম, চাষিরা দিশেহারা
Advertisement
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
কমেছে কলার দাম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘শস্য উদ্বৃত্ত’ জেলা হিসেবে খ্যাত জয়পুরহাটের বিভিন্ন হাটবাজারে কলার সরবরাহ বেড়ে গেলেও প্রকৃত পাইকারি ক্রেতার সংখ্যা বাড়েনি। জেলার বাইরে থেকে আগের মতো আর কলা ব্যবসায়ীরা আসছেন না।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে কমেছে কলার দাম। ফলে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে কলাচাষিদের। এ লোকসানের ধাক্কা সামলাতে না পেরে চাষিদের কেউ কেউ কলা চাষ বাদ দিয়ে অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলার ৫টি উপজেলায় ৭০৫ হেক্টর জমিতে ৩১ হাজার ৮১ মেট্রিক টন কলার বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ভরা মৌসুমে বাজারে সরবরাহ বাড়লেও বাড়েনি পাইকারি ক্রেতার সংখ্যা। আর এই সুযোগে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ কলাচাষিদের।
মাসখানেক আগেও যে এক কাঁদি (স্থানীয় ভাষায় ‘ঘাউর’) শবরি (মানিক) জাতের কলা পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায়, তা এখন নেমে এসেছে মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মূল্যবৃদ্ধিতে বিঘাপ্রতি খরচ ৩৫-৪০ হাজার টাকা হলেও বিক্রি করে মিলছে মাত্র ২৫-৩০ হাজার টাকা। এছাড়া সাগর ও চিনিচাঁপা (চম্পা)-সহ অন্যান্য কলার দাম আরও নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে।
চাষিদের দাবি, মাস তিনেক আগে আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টিতে কলার ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় নতুন করে লাগানো বাগানগুলোর কলা একসঙ্গে বাজারে আসায় সরবরাহ বেড়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী পাইকারি ক্রেতার সংখ্যা বাড়েনি। হাতেগোনা স্থানীয় কয়েকজন কলা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পরিকল্পিতভাবে কলার বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। বাইরের কোনো পাইকারি ক্রেতা বা কলা ব্যবসায়ী হাটগুলোতে না আসায় বাধ্য হয়ে তাদের কাছেই নিয়ন্ত্রিত কম দামে কলা বিক্রি করতে হচ্ছে চাষিদের। ফলে লাভ তো দূরের কথা, বর্তমান দামে কলা বিক্রি করে তাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না।
তবে সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করে জেলার বৃহত্তর জামালগঞ্জ কলা বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বর্তমানে ঢাকাসহ প্রধান মোকামগুলোতে কলার সরবরাহ বাড়ায় পাইকারি দর কমে গেছে। প্রায় একই কথা বলেছেন জয়পুরহাট সদরের দুর্গাদহ কলার বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, কলাচাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি চলছে। কোনো সিন্ডিকেটের কারসাজির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
