থানায় ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাগবিতণ্ডার ঘটনায় পুলিশের জিডি
Advertisement
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
থানায় ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাগবিতণ্ডার মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার কক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বাগবিতণ্ডার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানায় এই জিডি করা হয়।
এ বিষয়ে সরাইল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই দিনের ঘটনা উল্লেখ করে একটি জিডি করা হয়েছে। এটি কোনো অভিযোগ নয়। যেকোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলেই আমরা জিডি করে রাখি।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সরাইল থানায় ওসির সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা চাওয়া হলেও ওসি নিরাপত্তা দেননি বলে অভিযোগ রুমিন ফারহানার। এছাড়া ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় থানায় যান তিনি। রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি থানায় ওসির কক্ষে অবস্থান করেন।
এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ওসি তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। তবে ওসি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই ব্যক্তিকে রুমিন ফারহানা শিখিয়ে থানায় এনেছেন।
কথোপকথনের একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসিকে বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি।’
জবাবে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘আপনি তো আওয়ামী লীগের লোকজনকে সবসময় শেল্টার দেন। তাদের ধরতে গেলে নিষেধ করেন। আমার কাছে লিস্ট আছে। আপনি রাজ্জিকে ধরতে নিষেধ করেছেন।’
উত্তরে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘তিনি (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জি) তো আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত।’
এ বিষয়ে সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে অস্থিরতা তৈরি করেন। কিছু লোককে শিখিয়ে এনেছেন আজেবাজে কথা বলার জন্য। উনি বলেছেন আমি ইটভাটা থেকে টাকা নিই, অথচ হাওরের সব ইটভাটা এখন পানির নিচে। আমরা পূজায় পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে ওনার সঙ্গে পুলিশের একটি টিম রাখা ওই সময় কঠিন ছিল।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন- ওসি আমাকে বলেন, আপনার নিরাপত্তা মানুষ দেবে। এজন্যই মানুষ যা দেখছেন, ওরা আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার তো নিরাপত্তা লাগবে। আর ওনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটা থেকে পয়সা নেওয়া, ইটের ভাটা থেকে পয়সা নেওয়াসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এলাকাটা দাঙ্গাপ্রবণ। দাঙ্গা হওয়ার পরে যখন সব শান্ত হয়, তখন ওনারা যান। এ বিষয়গুলোই আমি জানতে এসেছিলাম। উনি যে ব্যবহার আমার সঙ্গে করেছেন, সেটা একজন নির্বাচিত এমপির সঙ্গে যায় না।

-6adc9cfe1717d.jpg)