ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা
এমপি আব্দুল আজিজের ছেলে ডিবি হেফাজতে
Advertisement
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
নুরুজ্জামান মিন্টু। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাটোর-৪ আসনের বিএনপি দলীয় এমপি আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে গুরুদাসপুরের নিজ বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন নাটোর ডিবির ওসি নজরুল ইসলাম। তবে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি।
এ দিকে শাকিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা গুরুদাসপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ঘটনার জন্য মিন্টুকে দায়ী করেন।
গত ১৪ আক্টোবর রাতে উপজেলার চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হেলমেটধারী সন্ত্রাসীরা শাকিলকে প্রথমে গুলি ও পরে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে শাকিলকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে উপজেলা হাসপাতাল ও পরে রাজশাহী মেডিকেল থেকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলার শিকার হওয়ার ১২ দিন পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় কাচারিপাড়া মহল্লার রবিউল করিম মিস্ত্রির ছেলে। তিনি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে চাঁচকৈড় বাজারপাড়া সড়কে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছে শাকিলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় হেলমেট পরা মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি। এ সময় তারা দুই রাউন্ড গুলিও ছোড়ে।
হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে শাকিল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে শহিদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
শাকিলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে টানা ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি তাকে। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এ ঘটনায় হামলার পাঁচ দিন পর গত ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা রবিউল করিম গুরুদাসপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুল হান্নান বলেন, মামলার আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা হবে বলে জানান তিনি।
শাকিলের মৃত্যুর খবরে তার পরিবার, স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এ হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সেখানেই চিকিৎসাধীন সোমবার রাতে মারা যান শাকিল।
