ধামরাইয়ে দুই ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত
Advertisement
ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ এএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকার ধামরাইয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন না থাকায় দুটি ইটভাটার একাংশ গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ভাটা দুটির মালিককে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ভাটা দুটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) উপজেলার কুশুড়া ইউনিয়নের মধুডাঙ্গা এলাকায় ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফাহিম শাহরিয়ার এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে মদিনা ব্রিকস ও সাজেদা ব্রিকসের মালিককে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
সূত্র জানায়, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়াই মধুডাঙ্গা এলাকায় সাজেদা ব্রিকস ও মদিনা ব্রিকস পরিচালনা করা হচ্ছিল। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ভাটা দুটিকে জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভাটার একাংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট মালিকদের ইটভাটা দুটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা অমান্য করে কার্যক্রম চালালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিম শাহরিয়ার বলেন, মঙ্গলবার উপজেলার দুটি ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এদিকে পরিবেশদূষণ রোধ ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ইটভাটার কারণে এলাকার ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও বায়ুর মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। চিমনি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া এবং ট্রাক্টরে মাটি পরিবহণের ফলে সৃষ্ট ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন আশপাশের বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, শুধু এই দুটি ইটভাটাই নয়, ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা অন্যান্য অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
অন্যদিকে পরিবেশবিদরা মনে করেন, ইটভাটার মালিকদের মধ্যে আইনগত সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনের নজরদারিও জোরদার করতে হবে। অনুমোদনহীন এসব ইটভাটায় কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে ইট তৈরি করা হচ্ছে। এতে একদিকে খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে গ্রামীণ সবুজ বেষ্টনীও ধ্বংস হচ্ছে।
