ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, খোলপেটুয়া নদীর বাঁধে ৩০০ ফুট ভাঙন
Advertisement
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
খোলপেটুয়া নদীর বাঁধে ৩০০ ফুট ভাঙন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বন্যাতলায় খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে প্রায় ৩০০ ফুট এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে শুরু হওয়া এ ভাঙনে চরের একটি বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ক্রমেই মূল বেড়িবাঁধের দিকে অগ্রসর হওয়ায় বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষার কাজে নেমেছেন। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেড়িবাঁধের বাইরে ওয়াপদা সড়কসংলগ্ন প্রায় ১০০ ফুট চরের মতো অংশ ছিল। ঝড়ের পর ওই অংশে ভাঙন শুরু হয়। পরে তা ছড়িয়ে প্রায় ৩০০ ফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হয়। এতে চরের প্রায় ১০০ ফুট অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পাশাপাশি মূল ওয়াপদা সড়কের প্রায় ৩০ ফুট ঢালও ভেঙে নদীতে চলে গেছে। বর্তমানে ভাঙন মূল সড়কের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতাপনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদের মাইকে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষার কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পরে পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, আশাশুনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রিয়াছাদ আলীসহ আশপাশের এলাকার পাঁচ শতাধিক মানুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
বর্তমানে ভাঙনস্থলে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। পাশেই অন্য কাজের জন্য আগে থেকে প্রস্তুত রাখা জিও ব্যাগ স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে এবং অর্থের বিনিময়ে শ্রমিক নিয়োগ করে ভাঙনস্থলে ফেলা হচ্ছে। তবে ভাঙনের গতি ও বিস্তৃতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না স্থানীয়দের।
স্থানীয় এনজিওকর্মী মাওলানা জাহিদুল ইসলাম বলেন, বেড়িবাঁধের ভেতরের পাশে থাকা লেকটি ভাঙনের অন্যতম কারণ। ভাঙন দিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে তালতলা বাজার, কুড়িকাহুনিয়া, প্রতাপনগর ফাজিল মাদ্রাসা, আল-আমিন মহিলা মাদ্রাসা, বন্যাতলা, বন্যাতলা স্কুল ও দরগাতলার আইটিসহ প্রতাপনগর এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হতে পারে।
মাওলানা রিয়াছাদ আলী বলেন, সম্প্রতি কুড়িকাহুনিয়ায় দেখা দেওয়া ভাঙনের তুলনায় বন্যাতলার ভাঙনের পরিধি প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। এখানেও ভাঙনের গতি অনেক বেশি। তবে ভাঙনস্থলের ৪০০ ফুটের মধ্যে কয়েক হাজার জিও ব্যাগ প্রস্তুত থাকায় প্রতিরোধকাজে কিছুটা সুবিধা হচ্ছে। কুড়িকাহুনিয়ার মতো এখানেও বেড়িবাঁধের ভেতর দিয়ে সমান্তরালভাবে একটি গভীর লেক রয়েছে বলে জানান তিনি।
পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাতক্ষীরা বিভাগ-২-এর অধীন ৭/২ নম্বর পোল্ডারে আকস্মিক এ ভাঙনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তারা। তবে কর্মকর্তারা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বাঁধ রক্ষার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আপাতত কিছু প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে খোলপেটুয়া নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাই ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তারা।
