ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা উঠছে বৃহস্পতিবার, সাগরযাত্রায় বাধা ‘অর্ণব’
Advertisement
শওকত আলী বাবু, বাগেরহাট
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমের দেওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠছে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর)। ওই দিন রাত ১২টার পর থেকেই সমুদ্রের উদ্দেশে যাত্রা করবেন জেলেরা।
তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও সেই যাত্রাপথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে সাগরে। উত্তাল রয়েছে বঙ্গোপসাগর। ফলে নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণকারী জেলেরা প্রথম দিনে যেতে পারছেন না।
এছাড়া জেলে-মহাজনদের মধ্যে রয়েছে বন ও জলদস্যু আতঙ্ক। মাথায় রয়েছে লাখ লাখ টাকার ঋণের বোঝা। এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নতুন করে ঋণ নিয়ে তাদের সাগরে ট্রলার পাঠাতে হচ্ছে।
এদিকে মহাজন ও ট্রলার মালিকরা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তাদের জাল-ট্রলার মেরামত করে সমুদ্রে যাওয়ার উপযোগী করেছেন। জেলেরাও অবসর কাটিয়ে মহাজনের আড়তে এসে উপস্থিত হয়েছেন। তবে বৈরী আবহাওয়ায় প্রথম দিনে সাগরে না গেলেও যাওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন জেলে-মহাজনরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) উপকূলীয় বাগেরহাটের শরণখোলাসহ বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য আড়ত, জেলেপল্লি ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাট এলাকা ঘুরে সাগরযাত্রার প্রস্তুতির চিত্র দেখা গেছে।
শরণখোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা শেষ মুহূর্তে এসে ব্যস্ত সময় পার করছেন জাল ও ফিশিং ট্রলার মেরামতে। ঘাটে নোঙর করা অর্ধশতাধিক ট্রলার। এসব ট্রলারে জেলেরা কেউ জাল তুলছেন, কেউ কেউ তুলছেন খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য মালামাল।
অন্যদিকে বরফকলগুলোতেও ব্যস্ততা বেড়েছে শ্রমিকদের। আস্ত বরফখণ্ড ভেঙে সেগুলো টুকরো করে তুলছেন ফিশিং ট্রলারে।
জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞার সময় তারা জাল-ফিশিং ট্রলার মেরামত কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এখন অপেক্ষা করছেন আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার। কারণ উত্তাল সাগরে ট্রলার নিয়ে বের হওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ঘাটেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের।
মৎস্য আড়তদার মো. কবির হাওলাদার জানান, এ বছর সব মৎস্য ব্যবসায়ীই কমবেশি লোকসানে রয়েছেন। তার ৮টি ফিশিং ট্রলারে কোটি টাকার ওপরে বিনিয়োগ করা। গত মৌসুমে এসব ট্রলারে আহরিত ৪ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে; কিন্তু এবার বিক্রি হয়েছে মাত্র এক কোটি টাকা। বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করে এই বিশাল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে এখন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি।
ইলিশ আহরণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও আবহাওয়া খারাপ থাকায় প্রথম দিনে সাগরে কোনো ট্রলার যেতে পারছে না। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে নভেম্বরের শুরু থেকে সাগরে যাওয়া শুরু করবে উপকূলের সব ফিশিং ট্রলারগুলো। তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি শেষ করে রাখা হচ্ছে।
শরণখোলা সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিনে সাগরে যাওয়া হচ্ছে না জেলেদের। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে মাছ ধরা শুরু হবে। লাখ লাখ টাকা লোকসানে পড়ে সব মৎস্য ব্যবসায়ী ঋণগ্রস্ত। তার ওপর সাগরে দস্যুদের ভয়। তাই দস্যু দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
শরণখোলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতেই ইলিশ আহরণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। এরপর সাগরে জাল ফেললে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়বে জেলেদের জালে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিন সাগরে যাওয়া নিয়ে কিছুটা সংকটে পড়েছেন জেলেরা। সাগরে নির্বিঘ্নে মাছ ধরার জন্য বন ও জলদস্যু নির্মূলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে।
