Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

দিনাজপুর বোর্ডের সোয়া কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্ত করার নির্দেশ

Advertisement

Icon

রংপুর ব্যুরো

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম

দিনাজপুর বোর্ডের সোয়া কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্ত করার নির্দেশ

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড

Advertisement

যুগান্তরে খবর প্রকাশের পর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা দুর্নীতির তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

২৬ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত ওই চিঠি দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে। তা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দপ্তরে এসে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

চিঠির সঙ্গে যুগান্তরে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত পত্রিকা কাটিং সংযুক্ত করা হয়েছে।

উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত ২৬ অক্টোবর প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে- বিদ্যালয় পরিবর্তনের নামে ‘টিসি ফি’ ও অফিস খরচের নামে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অনিয়মের সঙ্গে বোর্ডের স্কুল শাখার পরিদর্শক অধ্যাপক আমিনুল হক, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরী, বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন শাখার সেকশন অফিসার মেজবাহুল ইসলাম বকুল ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শহীদুল ইসলাম শহীদ জড়িত বলে তথ্য মিলেছে। এমতাবস্থায় বর্ণিত বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস আহমেদ চিঠি প্রাপ্তি স্বীকার করে এই প্রতিবেদকের ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘এগুলো নিয়ে আপনাদের এত উৎসাহ কেন? এ নিয়ে খোঁজ নিতে হবে কেন? তদন্ত কমিটি গঠন করেছি কিনা এটা বোর্ডের বিষয়। দুর্নীতি কি শুধু আমরাই করি! আর কেউ করেন না!’ বলে তিনি মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তার মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ‘দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড/ সোনালী সেবায় সিন্ডিকেট কোটি টাকা লোপাট’ শীর্ষক খবর যুগান্তরে প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী চলতি বছরে জেএসসি (অষ্টম শ্রেণিতে) স্কুল পরিবর্তনের (টিসি) জন্য আবেদন করেন। প্রতিটি শিশু শিক্ষার্থীর স্কুল পরিবর্তন ফি (সেবামূল্য) বাবদ ‘সোনালী সেবা’ নামে ১ হাজার টাকার ব্যাংক ড্রাফট নির্ধারণ করা ছিল।

কিন্তু দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সচিবের অনুকূলে ‘সোনালী সেবা’ খাতে ওই টাকা জমা প্রদান করার কথা থাকলেও তা না করে নগদ টাকা নেওয়া হয়। এ রকম সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৭শ জনের ‘সোনালী সেবার’ নামে নগদ টাকা জমা করা হয় বোর্ডের ব্যাংক হিসাব খাতে। অনুসন্ধানে যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে অবশিষ্ট ৩ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর নগদ দেওয়া টাকা বোর্ডের তহবিলে জমা না করে স্কুল পরিবর্তন বা টিসির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এতে করে শুধু দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত ফি ৩ হাজার ৮০০ জনের (যাদের ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়নি) তাদের বোর্ড ফির নামে ৩৮ লাখ টাকা এবং অফিস খরচের নামে অতিরিক্ত ৬৪ লাখ ৬০ হাজার টাকাসহ মোট প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

সার্ভারের কোড পরিবর্তনের মাধ্যমে বিশেষ কায়দায় ওই দুর্নীতি করা হয়েছে। এই পরিমাণ টাকা নগদ গ্রহণ করা হলেও শিক্ষার্থীদের নামে কোনো ব্যাংক রসিদ দেওয়া হয়নি।

এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর প্রথমে ১৩ অক্টোবর দুদক সমন্বিত দিনাজপুর জেলা কার্যালয় এ অনুসন্ধান শুরু করে। দুদকের অনুসন্ধান দল এই অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের স্কুল শাখার পরিদর্শক অধ্যাপক আমিনুল হক, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরী, বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন শাখার সেকশন অফিসার মেজবাহুল ইসলাম বকুল এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শহিদুল ইসলাম শহীদের সমন্বয়ে গঠিত ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদক সমন্বিত দিনাজপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমান।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ, আটক ১

ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ, আটক ১

রং নাম্বারে প্রেম, বিয়ের কথা বলে ডেকে নিয়ে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

রং নাম্বারে প্রেম, বিয়ের কথা বলে ডেকে নিয়ে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

সকালে স্বামী, বিকালে স্ত্রীর মৃত্যু

সকালে স্বামী, বিকালে স্ত্রীর মৃত্যু

দিনাজপুর বোর্ডের সোয়া কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্ত করার নির্দেশ

দিনাজপুর বোর্ডের সোয়া কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্ত করার নির্দেশ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম