নিষেধাজ্ঞার পর নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন জেলেরা
Advertisement
তরিকুল ইসলাম, বরগুনা
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাগরে টানা দীর্ঘ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ ধরতে সাগরে নামছেন জেলেরা।
এ উপলক্ষে বরগুনার পাথরঘাটা, তালতলী, আমতলী ও বরগুনা সদরের বিভিন্ন মৎস্যঘাটে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ট্রলারের ইঞ্জিন পরীক্ষা, জাল মেরামত, জ্বালানি তেল ও বরফ সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে ও ট্রলার মালিকরা।
দীর্ঘ বিরতির পর পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়ার আশায় নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন তারা।
তবে মাছের সংকট, জ্বালানি ও মাছ ধরার ব্যয় বৃদ্ধি, ঋণের বোঝা এবং নিষেধাজ্ঞার সময়ে পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। দীর্ঘদিন আয় বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারকে ধারদেনা করে চলতে হয়েছে। এবার কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেলে লোকসান আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
বরগুনায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৫২ হাজার ৪৭৬ জন। স্থানীয় পর্যায়ে অনিবন্ধিত প্রকৃত জেলের সংখ্যা প্রায় অর্ধলাখ বলে দাবি করা হচ্ছে। জেলেদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির কারণে অনেক প্রকৃত জেলে সরকারি সহায়তার বাইরে রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে বরাদ্দ সহায়তাও প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত ছিল।
জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ৩২৫টি অভিযান ও ৮৪টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩০ জনকে কারাদণ্ড, ১০টি মামলা, ৮১ হাজার টাকা জরিমানা এবং প্রায় ৬ লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়। এ সময়ে ৩৯ হাজার ৪৬৯ জন জেলেকে মোট ৯৮৬ দশমিক ৭২৫ মেট্রিক টন চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বরগুনা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ২২ দিনের বিরতি শেষে জেলেরা নতুন প্রত্যাশা নিয়ে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে মাছের সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধি তাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পর্যাপ্ত মাছ না পেলে ট্রলারের খরচ তোলা ও আগের দেনা পরিশোধ করা কঠিন হবে। তিনি প্রকৃত জেলেদের জন্য নিষেধাজ্ঞার সময়ে পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বলেন, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে নিষেধাজ্ঞা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর সুফল পেতে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ, জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে পর্যাপ্ত ইলিশ ও সামুদ্রিক মাছ পাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছেন উপকূলের জেলেরা। ভালো আহরণ হলে তারা ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে তিনি জানান।
