নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের আড়তে ইলিশের ছড়াছড়ি, মিলছে বড় পাঙাশও
Advertisement
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের আড়তে ইলিশের ছড়াছড়ি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নিরাপদ ইলিশ প্রজননের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ শিকারে নেমেছেন হাজার হাজার জেলে। ইলিশ পাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে চাঁদপুরের ৭০ কিলোমিটার নৌ এলাকায় বিচরণ করছেন জেলেরা। কিছু জেলে আড়তে নিয়ে আসছেন ইলিশ, পাঙাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।
এতে সরগরম হয়ে উঠেছে নদী উপকূলীয় আড়ত ও শহরের সব বাজার।
তিন সপ্তাহ অবসর সময় কাটিয়ে ব্যবসায়ী, শ্রমিক সবাই ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। তবে ইলিশের দাম কমেনি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে বড় সাইজের ইলিশ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর উপজেলার হরিণা মাছঘাটে অবস্থান করে দেখা গেছে জেলেদের ইলিশ আহরণ ও কেনাবেচার চিত্র।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে অনেক জেলে ইলিশ ধরার জন্য পদ্মা-মেঘনায় নেমেছেন। ওই সব জেলে ভোরের আলো দেখা দিতেই ভিড়েছেন মাছঘাটে। হরিণা ফেরিঘাটসংলগ্ন মাছঘাটে একের পর এক জেলে নৌকা এসে ভিড়ছে। জেলেরা প্লাস্টিকের ট্রেতে করে নিয়ে আসছেন ইলিশসহ অন্যান্য জাতের মাছ।
এই মাছঘাটে রয়েছে ছোট-বড় প্রায় ২০টি ইলিশের আড়ত। জেলেরা এসব আড়তে এনে মাছের স্তূপ করছেন এবং কিছু সময়ের মধ্যে হাঁকডাকে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এই ঘাটে সংরক্ষণ করে ইলিশ বিক্রি করা হয় খুবই কম। শহরে বিক্রির জন্য এক ধরনের খুচরা ব্যবসায়ী এবং বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে বিক্রি করার জন্য আরেক ধরনের ব্যবসায়ী এই ঘাট থেকে তাজা ইলিশ ক্রয় করে নিয়ে যান।
ঘাটের পাশের গোবিন্দপুর গ্রামের জেলে লিটন তপাদার বলেন, রাতে নদীতে নেমে ভোরে ঘাটে এসে ১২ হাজার টাকার ইলিশ বিক্রি করেছেন। যদি এভাবে ইলিশ পাওয়া যায়, তাহলে কয়েক দিনের মধ্যে তাদের ঋণ পরিশোধ হবে। তিনি প্রত্যাশা করছেন আরও ইলিশ পাবেন।
আরেক জেলে আবুল কালাম খান বলেন, তারা ৭ জন মিলে মধ্যরাতে নদীতে নেমেছেন। তাদের পাওয়া ইলিশ বিক্রি করেছেন ১৫ হাজার টাকায়। কিছু সময় পর আবারও নামবেন ইলিশ শিকারে। কয়েক দিন পরে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে আসবে বলে জানালেন তিনি।
ঘাটের আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ইলিশের দাম কমবে না। কারণ চাহিদা বেশি। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৫০০ থেকে ২৬০০ টাকা, ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং ছোট সাইজের অর্থাৎ ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কিছু জেলে ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশ মাছ পাচ্ছেন। এর মধ্যে বড় সাইজের পাঙাশ প্রতি কেজি ১২০০ টাকা এবং ছোট সাইজের পাঙাশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের আমদানি ভালো থাকলে দাম কমবেশি হতে পারে।
আরেক আড়তদার মো. সেলিম বলেন, সকাল থেকে মাছ আসা শুরু হয়েছে। আজ এবং আগামীকাল পর্যন্ত বোঝা যাবে ইলিশের আমদানি কেমন। কারণ বিগত বছরগুলোতে দুই দিন পরে ইলিশের আমদানি কমে গেছে।
এই ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম মিয়া বলেন, নিষেধাজ্ঞার পরে বড় সাইজের ইলিশ বেশি আসছে। ছোট সাইজের ইলিশের সংখ্যা খুবই কম। ইলিশ পরিমাণে কম পাওয়া গেলেও পাঙাশ মাছ পাওয়ায় জেলেরা লোকসান কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
হরিণা মাছঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বলেন, এই সময় নদীতে ইলিশ ভরপুর থাকত; কিন্তু অভিযান দিয়ে লাভ হয়নি। কারণ এক শ্রেণির জেলে মা ইলিশ মেরেছে। প্রশাসন তাদের নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে পারেনি।
শুক্রবার শহরের বিভিন্ন বাজারে ব্যাপক ইলিশের আমদানি দেখা যায়। তবে বেশ কিছু মাছ নিষেধাজ্ঞার সময়ে ধরা ইলিশ হিসেবে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বিকালের বাজার হিসেবে পরিচিত শহরের বিপণীবাগ বাজারে এমন চিত্রই দেখা যায়।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় দুটি অভিযান কঠোর থাকায় জেলেরা সুফল পাচ্ছেন। তারা ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশ পাচ্ছেন। সরকারিভাবে পাঙাশ বেড়ে ওঠার জন্য প্রকল্প দেওয়া হলে এটি ইলিশের মতো জাতীয় অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখবে।
