Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

ইনানীতে গ্যাসের সঙ্গে তেলের অস্তিত্ব, পর্যবেক্ষণে পেট্রোবাংলা

Advertisement

Icon

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০১ এএম

ইনানীতে গ্যাসের সঙ্গে তেলের অস্তিত্ব, পর্যবেক্ষণে পেট্রোবাংলা

Advertisement

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসের সঙ্গে তেলের উপস্থিতি পেয়েছে পেট্রোবাংলা। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গ্যাসটিকে থার্মোজেনিক বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গ্যাসের উৎস ও মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময় গ্যাসের প্রবাহ অব্যাহত থাকলে তা বন্ধ করতে রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে আপাতত আগুন নেভানো কিংবা গ্যাস বের হওয়ার পথ বন্ধ না করার নির্দেশনা দিয়েছেন পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা। তাদের মতে, জোর করে আগুন নেভানো বা গ্যাসের পথ বন্ধ করা হলে ভূগর্ভে গ্যাস জমে উচ্চচাপ তৈরি হতে পারে। এতে বড় ধরনের বিস্ফোরণের আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নির্গত গ্যাসটি থার্মোজেনিক বলে মনে হচ্ছে। এর সঙ্গে কিছুটা তেলের মিশ্রণ বা উচ্চ হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতিও রয়েছে। গ্যাসের উৎস ও পরিমাণ নিশ্চিত হতে ১৫ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ সময় আগুনের শিখার উচ্চতা ও গ্যাস নির্গমনের পরিস্থিতি দেখা হবে।

মো. শোয়েব বলেন, পর্যবেক্ষণ শেষে আগুনের শিখা একই রকম থাকলে বা উচ্চতা বাড়লে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করতে রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাইড ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। মূল কূপের পাশ দিয়ে বিকল্প কূপ খনন করে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা করা হবে। তবে এর মধ্যে গ্যাসের প্রবাহ কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনোভাবেই জোর করে আগুন নেভানো যাবে না। গ্যাস বের হওয়ার পথও বন্ধ করা যাবে না। এতে ভূগর্ভে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

আশপাশের স্তর থেকেও বের হচ্ছে গ্যাস

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে আশপাশের কয়েকটি ভূতাত্ত্বিক স্তর থেকেও গ্যাস জ্বলতে দেখা গেছে বলে জানান পেট্রোবাংলার এই কর্মকর্তা। ভূগঠনের পরিবর্তনের কারণে এসব স্তর দিয়ে গ্যাস বের হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বাপেক্স ওই এলাকায় ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) ভূকম্পন জরিপ পরিচালনা করবে। জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভূগর্ভে গ্যাসের মজুতের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক মজুত পাওয়া গেলে সেখানে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদির বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাপেক্সের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সক্ষমতা রয়েছে। তবে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

২০০ মিটারে ১৪৪ ধারা, তবু মানুষের ভিড়

গত ২৭ অক্টোবর সকালে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইনানী ছোট খাল ব্রিজসংলগ্ন একটি বাড়িতে নলকূপ বসানোর কাজ চলছিল। মাটির প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে পাইপ প্রবেশ করানোর পর গ্যাস বের হতে শুরু করে। একপর্যায়ে গ্যাসে আগুন ধরে যায়। শুক্রবার পর্যন্ত টানা চার দিন ধরে আগুন জ্বলছিল।

ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পরে গ্যাসের উৎস ও প্রকৃতি জানতে বাপেক্সের কারিগরি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এদিকে জননিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পান্না আক্তার স্বাক্ষরিত আদেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

আদেশে ঘটনাস্থল ও আশপাশে আগুন জ্বালানো, ধূমপান, দিয়াশলাই বা লাইটার ব্যবহারসহ আগুনের স্ফুলিঙ্গ তৈরি হতে পারে এমন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এলাকায় মাইকিং করার পাশাপাশি কাঁটাতারের বেড়া ও লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। কিন্তু এরপরও প্রতিদিন ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। বিশেষ করে বিকেলের দিকে মানুষের সমাগম বাড়ছে। অনেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাপেক্সের পক্ষ থেকে আগে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমার কথা বলা হয়েছিল। তাঁদের আশা ছিল, এর মধ্যে আগুনের তীব্রতা কমবে। কিন্তু আগুন জ্বলতে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।

আরেক বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, আগুনের কারণে সড়কে চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। যানবাহন নিয়ে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতে কষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় শহিদুল আলম বলেন, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনেকে কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ঘটনাস্থলের কাছে যাচ্ছেন। এভাবে মানুষের ভিড় চলতে থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

গ্যাসের আগুনের কারণে একদিকে নিরাপত্তাঝুঁকি, অন্যদিকে স্থানীয়দের স্বাভাবিক চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন স্থানীয়রা।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

কক্সবাজারের ইনানীতে ১৪৪ ধারা জারি

কক্সবাজারের ইনানীতে ১৪৪ ধারা জারি

৩৩ ঘণ্টায়ও নেভেনি কক্সবাজারের ইনানীর আগুন

৩৩ ঘণ্টায়ও নেভেনি কক্সবাজারের ইনানীর আগুন

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ

অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর টুপটুপ রিসোর্টের কার্নিশ থেকে আরেক লাশ উদ্ধার

অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর টুপটুপ রিসোর্টের কার্নিশ থেকে আরেক লাশ উদ্ধার

ইনানীতে মাটি থেকে বের হচ্ছে আগুন, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ৩ ইউনিট

ইনানীতে মাটি থেকে বের হচ্ছে আগুন, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ৩ ইউনিট

ডিএনএ পরীক্ষায় ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন

টুপটুপ রিসোর্টে আগুন ডিএনএ পরীক্ষায় ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন

আরও পড়ুন

ইনানীতে গ্যাসের সঙ্গে তেলের অস্তিত্ব, পর্যবেক্ষণে পেট্রোবাংলা

ইনানীতে গ্যাসের সঙ্গে তেলের অস্তিত্ব, পর্যবেক্ষণে পেট্রোবাংলা

৩০ লাখ টাকা দিয়েও দালালদের হাত থেকে তাকে বাঁচানো যায়নি, এখন...

৩০ লাখ টাকা দিয়েও দালালদের হাত থেকে তাকে বাঁচানো যায়নি, এখন...

গরুর হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই পাবনায় জোড়া খুন

গরুর হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই পাবনায় জোড়া খুন

গ্রেফতার ইউপি সদস্যকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিল স্বজনরা

গ্রেফতার ইউপি সদস্যকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিল স্বজনরা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম