একদিনের ব্যবধানে সুর বদলে গেল জামায়াত প্রার্থীর
Advertisement
এটিএম সামসুজ্জোহা, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ব্যানারে বের হওয়া সেই বিক্ষোভ মিছিল
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গত শুক্রবার যে হাত দিয়ে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থীর মুখে মিষ্টি তুলে দিয়েছিলেন, ঠিক তার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই সেই হাতেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ব্যানার তুলে নিলেন জামায়াতে ইসলামীর পরাজিত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটের ময়দানে একদিন আগে যে ‘সৌহার্দ ও সৌজন্যের ফুলঝুরি’ ফুটেছিল, একদিন বাদেই তা রূপ নিল তুমুল বিক্ষোভে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ব্যানারে বের হওয়া সেই বিক্ষোভ মিছিল আর সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে নির্বাচন কমিশনকে ‘অথর্ব’ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন দেলাওয়ার হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন পান ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।
নির্বাচনে পরাজয়ের পরদিন শুক্রবার দুপুরে বিজয়ী প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ফুলের তোড়া হাতে সোজা চলে যান দেলাওয়ার হোসেনের হাজীপাড়ার বাসায়। সেখানে হাসিমুখে কোলাকুলি হয়, চলে মিষ্টিমুখ এবং ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার শপথ। দেলাওয়ার তখন বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে দলমতের ঊর্ধ্বে ওঠার আহ্বানও জানান।
কিন্তু সেই মধুর দৃশ্যের রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার সন্ধ্যায় পাল্টে যায় দৃশ্যপট। দলবল নিয়ে রাজপথে নেমে পড়েন দেলাওয়ার হোসেন।
শনিবারের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, ২৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপি, জালভোট ও ভোট ডাকাতি হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভোটকেন্দ্রে ও পরবর্তী সময়ে তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং এক নারী কর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
ক্ষমতা বদলের পরও নির্বাচনি ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি মন্তব্য করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ৫ আগস্টের পর একটি সুষ্ঠু পরিবেশের আশা করা হলেও এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে—দলীয় সরকারের অধীনে কখনো নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।
শুধু নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করেই ক্ষ্যান্ত হননি দেলাওয়ার হোসেন, একই সঙ্গে তিনি নিশানা করেছেন মাঠে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদেরও।
নির্বাচন কমিশনকে ‘অথর্ব’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তাদের পদত্যাগের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে নির্বাচনের দায়িত্ব পালনকারী রিটার্নিং, প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
এদিকে একদিনের ব্যবধানে দুই নেতার এই বৈপরীত্যমূলক আচরণ নিয়ে এখন সরগরম ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। নেটিজেনদের একাংশ দুই প্রার্থীর আগের দিনের সৌহার্দপূর্ণ আচরণের প্রশংসা করলেও, পরদিনই রাজপথে নেমে পড়ার এই রাজনৈতিক নাটকীয়তা নিয়ে চলছে নানা রসালো ও সমালোচনামূলক আলোচনা।
