স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় স্ত্রী কারাগারে
Advertisement
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় কারাগারে স্ত্রী। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজবাড়ীতে স্বামীর দায়ের করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় মোছা. তানিয়া খাতুন (২২) নামে এক নার্সকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শেখ মো. মেহেদী হাসান সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তানিয়া রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে ও একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্মরত নার্স।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে মোছা. তানিয়া খাতুনের পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সাখাওয়াত হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে তানিয়াকে স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, তানিয়ার স্বামী মো. সাখাওয়াত হোসেনের ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ৬ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা রাখার জন্য দেন। সে ব্যাংকে জমা না রেখে টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি মো. সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তপূর্বক রাজবাড়ী সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে সত্যতা আছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। তানিয়া আদালতে আপসের শর্তে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তার জামিন দেন। আপস না হওয়ায় ধার্য তারিখ সোমবার (২ নভেম্বর) আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের প্রার্থনা করলে বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে তানিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে মো. সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে তানিয়ার বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে বালিয়াকান্দি আমলী আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান। পরে ১৬ দিন পর তিনি জামিনে বের হন।
মামলার বাদী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সুন্দর একটি সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নানা অশান্তি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ও সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের অনেক চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। বাধ্য হয়েই আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আদালতের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শেখ মেহেদী হাসান বলেন, আদালতের তদন্তের পর আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আসামি আদালতে হাজির হয়ে আপসের শর্তে জামিন নেন। এরপর বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমেও বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আসামি বাদীর সঙ্গে সংসার করতে রাজি না হওয়ায় এবং মীমাংসা কার্যকর না হওয়ায় আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

