ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: এমপি-পুত্র মিন্টু আবারও রিমান্ডে
Advertisement
নাটোর ও গুরুদাসপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
নুরুজ্জামান মিন্টু
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় নাটোর-৪ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর আরও দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার গুরুদাসপুর আমলি আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে প্রথম দফায় গত ২৭ অক্টোবর মিন্টুকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তিন দিনের রিমান্ড শেষে গত ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সোমবার দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি আরও বলেন, প্রথম দফার রিমান্ডে মিন্টুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে শুক্রবার ভোর ৩টার দিকে আলামিন হোসেন (২৬) ও আনিসুর রহমান (২৫) নামের দুজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা কয়েকজন ব্যক্তি শাকিলের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে কুপিয়ে জখম করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান হামলাকারীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা রবিউল ইসলাম থানায় মামলা করেন।
হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাকিলের মৃত্যু হয়। ওই রাত ১০টার দিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে এমপি আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলাটি বর্তমানে ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে মিন্টুকে যুবদলের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
শাকিলের জানাজার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে আমেরিকা প্রবাসী রাসেলের শপিংমলে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরের দিন বুধবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমপি আব্দুল আজিজের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এসব ঘটনায় নাটোর জেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
এমপি আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে জেলা বিএনপিতে আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জেলা বিএনপি দীর্ঘ আট ঘণ্টা আলোচনা সভা করে। সভায় শাকিল হত্যা মামলায় তার ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং এমপির ভাইরাল ভিডিও নিয়ে আলোচনা হয়।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘সব ঘটনা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। আব্দুল আজিজ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও সংসদ সদস্য। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা জেলা কমিটির নেই। তাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে কেন্দ্রে চিঠি পাঠানোর কথা থাকলেও দুপক্ষের টানাপোড়েনে এখনো সেই চিঠি পাঠানো সম্ভব হয়নি বলে বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে নিহত শাকিলের গুরুদাসপুর পৌরসভার খামারনাচকৈড় এলাকার বাড়িতে যান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল হাসান রাকিব। তারা নিহতের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং দ্রুত সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দেন।
