বিএনপি নেতার ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি, ভিডিও ভাইরাল
Advertisement
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
আমিনুর রহমান আমান মাদবর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেলা শহরের কাছে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে পূর্বনির্ধারিত স্থানে নির্মাণের দাবি নিয়ে বিএনপির মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এবার তার ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান মাদবর।
এ বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে টিপু মাদবরের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ হুমকি দেন আমান মাদবর। এ সময় তার পাশে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমান মাদবর। বক্তব্যের একপর্যায়ে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরকে উদ্দেশ করে তাকে ঘিরে হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য দেন তিনি।
যেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, হুইপ অপু ভাইকে নিয়ে কটূক্তি করায় আমরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছি এবং সেই সঙ্গে ওই সব কুলাঙ্গারকে দল থেকে বহিষ্কার ও গ্রেফতার দাবি জানিয়ে আমরা সড়ক ব্যারিকেড দিয়েছি। জেলা বিএনপি নেতারা আমাদের রোড ব্লকেডটি উঠিয়ে নিতে বলেছেন। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, দুই-এক দিনের মধ্যে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করবে এবং গ্রেফতার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, যুবদল- মিয়া নুরুদ্দিন অপু ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোনোরকম ষড়যন্ত্র হলে এবং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দেশের সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করলে, সে যেই হোক, যত বড় শক্তিশালী হোক, তার ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেব’ এবং তাকে এই শরীয়তপুর থেকে অবাঞ্ছিত করব। আমরা কোনোভাবেই ওই কুলাঙ্গারদের বরদাশত করব না।
তার বক্তব্যের ওই অংশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেলা শহরের কাছে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে পূর্বনির্ধারিত স্থানে নির্মাণের দাবিতে গত ২৮ অক্টোবর শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ কর্মসূচির পর জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।
এর প্রতিবাদে ১ নভেম্বর দুপুরে জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করেন। পরে শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে তারা টিপু মাদবরের বহিষ্কার ও গ্রেফতারের দাবি জানান। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার একেএম নাসির উদ্দিন কালুর কাছে স্মারকলিপিও দেন তারা।
এদিকে টিপু মাদবরকে উদ্দেশ করে আমান মাদবরের দেওয়া হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের ভেতর নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির ভেতরে দেখা দিয়েছে দ্বিধা-বিভক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের পাশাপাশি, প্রকাশ্যে এমন হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের পাশে স্থাপনের দাবিতে স্থানীয়দের নিয়ে এক উঠান বৈঠকে টিপু মাদবরকে বলতে শোনা যায়- বিভিন্ন জায়গায় আমার ছবি বানাইয়া পুইড়া ফালাইতাছে, আমার ঘাড় নামাইয়া দিব বক্তৃতা দিতাছে। অথচ গত ১৭ বছর টিপু না থাকলে শরীয়তপুর শহরে কেউ মিছিল নামাইতে সাহস পায় নাই। ১৮ সালে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকালে শফিকুর রহমান কিরণ (২ আসনের সংসদ সদস্য), সাঈদ আহমেদ আসলাম (১ আসনের সংসদ সদস্য), কালু সরদারের (সাবেক ১ আসনের সংসদ সদস্য) বাড়িতে সেদিন সাঈদ আহমেদ আসলাম মারা যেত, শফিকুর রহমান কিরণ মারা যেত, কালু সরদারের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিত। আমি টিপু সেদিন বুক চিতিয়ে মোকাবিলা করে তাদের বাঁচিয়েছি। আমার জীবনটা যুদ্ধে কেটেছে, কেউ আমাকে যুদ্ধের হুংকার দেবেন না। আমি চাই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শরীয়তপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে হবে এটাই আমাদের দাবি। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নাই।
বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান মাদবর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এ ধরনের বক্তব্য দিইনি, আপনারা ভালো করে শোনেন। যদিও এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবর বলেন, আমাকে উদ্দেশ করে হুমকি দেওয়া ভিডিওটি আমি দেখেছি। আমি এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।
