ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে গতি পেল জারিয়া-দুর্গাপুর রেললাইন প্রকল্প
দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে গতি পেল জারিয়া-দুর্গাপুর রেললাইন প্রকল্প
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, সীমাহীন অপেক্ষা আর স্বপ্নের রেল যোগাযোগ—নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার মানুষের সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথে এবার দৃশ্যমান অগ্রগতির নতুন বার্তা এসেছে।
জারিয়া-ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা প্রণয়ন প্রকল্প নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রকল্প যাচাই কমিটির (পিইসি) গুরুত্বপূর্ণ সভা। ফলে পাহাড়, নদী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এ অঞ্চলে রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং রেললাইন সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরছেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ মে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে দুর্গাপুর সফরে আসেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এমপি এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সফরকালে তারা জারিয়া-ঝাঞ্জাইল রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন এবং জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয়তা সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন। পরে দুর্গাপুর জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা এবং রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্য সুফল নিয়ে আলোচনা হয়।
মতবিনিময় সভায় রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তার এ উদ্যোগে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রেল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর প্রকল্প যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নেত্রকোনা জেলার জারিয়া-ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা প্রণয়ন প্রকল্পটি আলোচনায় আসে।
সভায় আলোচিত অন্য দুটি প্রকল্প হলো—সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং ফৌজদারহাট থেকে চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ ও সিজিপিওয়াই থেকে বে-টার্মিনাল পর্যন্ত নতুন রেল লিংক স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ। সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রেল যোগাযোগ বদলে দিতে পারে অর্থনীতি:
জারিয়া-ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে শুধু যাতায়াতের নতুন পথই তৈরি হবে না, বরং এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ কম সময়ে এবং তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।
দুর্গাপুরের সাদামাটির পাহাড়, সোমেশ্বরী নদী, বিজয়পুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে- যেগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকদের আকর্ষণ করে। দুর্গাপুর থেকে ঢাকা সরাসরি রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে, বাড়বে পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য ও স্থানীয় উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য পরিবহণে রেল যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বছরের পর বছর ধরে এ অঞ্চলের মানুষ রেল যোগাযোগের প্রত্যাশা করে আসছেন। সেই প্রত্যাশাকে সামনে রেখে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে রেল মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় সমীক্ষা, যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে প্রকল্পটির পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুরের মাটিতে ট্রেনের হুইসেল বেজে উঠবে—এমন স্বপ্নই দেখছেন দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার মানুষ।
