‘এনসিপিকে অবশ্যই জামায়াত জোট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে’
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, এনসিপিকে অবশ্যই জামায়াত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় আরও অনেকে বের হয়ে যাবে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ঝিনাইদহ জেলা শহরের একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপি ও জামায়াত প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে এনসিপিতে যুক্ত হয়েছিল, তাদের অনেকেই বের হয়ে যাচ্ছে। সামান্তা শারমিনদের দলে ধরে রাখতে না পারা এনসিপির ব্যর্থতা। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এর আগে মন্তব্য করেছিলেন যে, জামায়াত সংস্কার চায় না, জামায়াত আসলে সংস্কারের নামে ভণ্ডামি করছে- ঠিক একই ধরনের অভিযোগ এনে সামান্তা শারমিন পদত্যাগ করেছেন। তার মানে এই অভিযোগগুলো সত্য। জামায়াতের বাংলাদেশের রাজনীতি হলো ইসলামকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা।
তিনি আরও বলেন, বিদেশিদের সঙ্গে বৈঠক করে তারা বলে যে, আমরা ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন কায়েম করব না, অথচ গঠনতন্ত্রেই উল্লেখ করা আছে যে, তারা ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন কায়েম করবে। জামায়াতের সঙ্গে যারা জোটসঙ্গী আছে, তাদের বলে যে আমরা ক্ষমতায় গেলে সংবিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করব। আমরা দেখেছি, কর্নেল অলি সাহেব জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন যে, জামায়াতের আমির তাকে কথা দিয়েছেন, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন নয়, প্রচলিত আইন ও সংবিধান অনুযায়ী দেশ চালাবে। তার মানে জামায়াত যেভাবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে, ঠিক একইভাবে জোটসঙ্গীদের সঙ্গেও প্রতারণা করছে।
এনসিপি ও জামায়াতের আদর্শিক পার্থক্য তুলে ধরে রাশেদ বলেন, জামায়াত এবং এনসিপির মধ্যে আসলে টানাপোড়েন চলছে। জামায়াতের আদর্শ আর এনসিপির আদর্শের কোনো মিল নেই। তেল এবং জল যেমন একসঙ্গে থাকতে পারে না, এনসিপি এবং জামায়াতও কোনোভাবেই একসঙ্গে রাজনীতি করতে পারে না। আমি মনে করি, নাহিদ ইসলামের উচিত হবে অবশ্যই জামায়াত জোট থেকে বেরিয়ে আসা।
এছাড়াও সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অবশ্যই ভালো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চেষ্টা করছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছিল সেই পরিস্থিতির উন্নতির জন্য তিনি কাজ করছেন। যারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদকে টিকিয়ে রাখার জন্য গুম, খুন, ক্রসফায়ারসহ বিভিন্ন অন্যায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে, তাদের সরকার আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে অনেকে গ্রেফতার হয়েছে, বাকিদের বিষয়ে তদন্ত চলমান।
