বিডিআর বিদ্রোহে চাকরি হারিয়ে প্রবাসে, লাশ হয়ে ফিরলেন কুমিল্লার খোরশেদ
কুমিল্লা ব্যুরো
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩০ এএম
খোরশেদ আলম। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লার দেবিদ্বারের খোরশেদ আলম ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহে চাকরি হারানোর পর ২০১৭ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রমে গড়ে তুলেছিলেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের আবহা শহরে দুই সুদানি নাগরিকের ছুরিকাঘাতে খুন হয়ে লাশ হয়ে দেশে ফিরলেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের ভিরাল্লা গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়। নিহত খোরশেদ আলম ওই গ্রামের মৃত হাজি নুরুল ইসলামের ছেলে।
স্বজনরা জানান, ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের পর চাকরিচ্যুত হন খোরশেদ। সে সময় খাগড়াছড়িতে কর্মরত ছিলেন তিনি। চাকরি হারানোর পাশাপাশি দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগও করতে হয় তাকে। পরে জীবিকার তাগিদে ২০১৭ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে আবহা শহরে প্রথমে একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে চাকরি শুরু করেন। দীর্ঘদিন পরিশ্রম করে জমানো অর্থে প্রতিষ্ঠা করেন একটি লন্ড্রির দোকান। ব্যবসার আয় থেকে নিজ এলাকায় একটি কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মাদ্রাসার শিক্ষা উপকরণসহ যাবতীয় ব্যয়ও বহন করতেন তিনি। স্বপ্ন ছিল দ্বীনি শিক্ষার প্রসার ঘটানোর।
স্বজনদের ভাষ্য, গত ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টার দিকে দোকানের বকেয়া টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে তার বাংলাদেশি এক কর্মচারীর সঙ্গে সুদানের দুই নাগরিকের বিরোধ ও মারামারি হয়। খবর পেয়ে বাসা থেকে দোকানে গিয়ে বিরোধ থামানোর চেষ্টা করেন খোরশেদ। এ সময় সুদানি দুই ব্যক্তি তার বুকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সৌদি পুলিশ অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে আটক করে। বর্তমানে দেশটিতে হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার দেশে পৌঁছায় খোরশেদের মরদেহ। লাশবাহী গাড়ি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। প্রতিবেশীদের চোখের পানিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকার পরিবেশ।
নিহতের বড় মেয়ের জামাতা নাজমুল হাসান বলেন, ‘বিডিআর বিদ্রোহের কারণে তিনি বিনাদোষে চাকরি হারিয়েছিলেন। সরকার থেকেও কোনো সহযোগিতা পাননি। আমরা চাই, তার চাকরির পেনশনের টাকা দিয়ে সরকার যেন পরিবারটিকে সহযোগিতা করে। তিনি বলেন, আমার শ্বশুরের কোনো ছেলে সন্তান নেই। আমার স্ত্রীসহ চার মেয়ে। তারা এখন বাবাকে হারিয়ে নিঃস্ব।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘খোরশেদ আলমের মৃত্যুর আমরা জেনেছি। লাশ আসা থেকে শুরু করে দাফন পর্যন্ত খোঁজ রেখেছি।’
