পড়ানোর নামে মাদ্রাসাছাত্রীকে নিপীড়ন, স্কুলশিক্ষক গ্রেফতার
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
জাহিদুল ইসলাম জাহিদ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আলমডাঙ্গায় ১৪ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর নামে নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম জাহিদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (৮ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আলমডাঙ্গা শহরের প্রধান সড়কে অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম জাহিদ উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের দোয়ারপাড়ার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় বেসরকারি ব্রাইট মডেল স্কুলের শিক্ষক।
এর আগে গত শনিবার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন নিপীড়নের শিকার ছাত্রীর মা।
মাদ্রাসাছাত্রীর মায়ের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস ধরে ওই শিক্ষক ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে গৃহশিক্ষক হিসেবে তাকে প্রাইভেট পড়াতেন। তবে গত এক মাস ধরে শিক্ষকের কাছে পড়তে অনীহা প্রকাশ করে মেয়েটি। শিক্ষকের আসার সময় হলে তার মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিত। বিষয়টি জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু জানায়নি। পরে এক আত্মীয়ের কাছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির বিষয়টি খুলে বলে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ অক্টোবর ছাত্রীর মা বাড়ির বাইরে থাকাকালে মেয়েটি তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিল। সেখানে মেয়েটি শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির কথা জানায়। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের অবহিত করা হয়। এরপর গত ২৫ অক্টোবর থেকে ওই শিক্ষককে প্রাইভেট পড়াতে আসতে নিষেধ করেন ছাত্রীর মা।
অভিযোগকারীর দাবি, গত ৪ নভেম্বর আলমডাঙ্গা দারুস সালাম মসজিদের সামনে তার বড় ভাই অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানতে চান। এ সময় ওই শিক্ষক অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা চান বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রোববার বেলা ১১টার দিকে অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকের ব্যানারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষ হতেই অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে তার ব্রাইট মডেল স্কুল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ওসি রাকিবুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় জেলহাজতে পাঠানো হবে।
