ভৈরবে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসক গ্রেফতার
Advertisement
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯, ০৬:০৩ পিএম
ভৈরব থানায় ডাক্তার কামরুজ্জামান আজাদ (সাদা সার্ট পরিহিত)
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় ভুল চিকিৎসায় মো. জুয়েল মিয়া (৩৪) নামে এক পোলট্রি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার ভৈরব ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার খবর পেয়ে রোগীর স্বজনসহ ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালটি ব্যাপক ভাংচুর করে।
নিহত জুয়েল মিয়া ভৈরব পৌর এলাকার চন্ডিবের গ্রামে হাজী আলাউদ্দিনের মেয়ে।
এই ঘটনায় শুক্রবার সকালে ভৈরব থানায় ডাক্তারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন বড় ভাই মো. কামাল মিয়া।
মামলার আসামিরা হলেন ডা. কামরুজ্জামান আজাদ, ডা. ইমরান, ডাক্তারের সহযোগী গৌরাঙ্গ সাহা, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশারফ হোসেন ও হাসপাতালের পরিচালকগণ।
বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে ডা. কামরুজ্জামান আজাদকে পুলিশ হাসপাতাল থেকে আটক করে। শুক্রবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে দুপুরে কিশোরগঞ্জ আদালতে পাঠায়।
নিহতের স্বজনরা জানান, পোলট্রি ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়া প্রায় তিন বছর আগে সিএনজির দুর্ঘটনায় তার ডান হাত ভেঙে যায়। তখন তাকে এই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হলে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে ডাক্তার কামরুজ্জামান আজাদ তার হাতে অপারেশন করেন। অপারেশনের সময় তার হাতের ভেতর রড লাগানো হয়েছিল।
সেই রডটি বৃহস্পতিবার রাতে হাত থেকে খুলতে অপারেশন করার সময় তাকে এনেস্থিসিয়া দেয়া হয়। অপারেশন শুরু আগে এনেস্থিসিয়া দেন ডাক্তার মো. এমরান। অপারেশন থিয়েটারে অপারেশন করে ডাক্তার আজাদ। তাকে সহায়তা করেন সহকর্মী গৌরাঙ্গ সাহাসহ কয়েকজন।
এনেস্থিসিয়া দেয়ার পর পর তার হার্ডবিট বেড়ে ও প্রেসার কমে যায় বলে ডাক্তার জানান। এক পর্যায়ে অপারেশন থিয়েটারে জুয়েল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
ঘটনার পর স্বজনরা ডাক্তারকে হাসপাতালে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ ছাড়া হাসপাতালে ভাংচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় ক্ষুব্ধ প্রায় কয়েকশ জনতা ও রোগীর স্বজনরা ডাক্তারের বিচার দাবি করে হাসপাতালের সামনে শ্লোগান দেয়।
খবর পেয়ে ভৈরব থানার পুলিশ, র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) মো. আনিসুজ্জামান খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা পর্যন্ত রোগীর স্বজনরাসহ উত্তেজিত কয়েকশ জনতা হাসপাতালটি ঘেরাও করে রাখে। এরপর রাত পৌনে ২টার দিকে পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের কড়া নিরাপত্তার মধ্য ডাক্তারকে হাসপাতাল থেকে বের করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহত জুয়েলের বড় ভাই মামলার বাদী মো. কামাল মিয়া জানান, অপারেশনের জন্য ডাক্তার কামরুজ্জামান আজাদকে ৪০ হাজার টাকা দেয়া হয়। তিনি রোগীর অপারেশনের আগে কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা করেননি। তার ভুল চিকিৎসার কারণেই আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। অপারেশন থিয়েটারে ডাক্তার ইমরান ও গৌরাঙ্গ সাহা ভুলভাবে এনেস্থিসিয়া দেয়ার কারণে জুয়েলের শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বলে তিনি পরে জানতে পারেন বলে জানান।
ডা. কামরুজ্জামান আজাদ শুক্রবার থানায় যুগান্তরকে বলেন, অপারেশনের আগে এনেস্থিসিয়া দিয়েছে ডা. ইমরান। হাফ বডি এনেস্থিসিয়া দেয়ার পর আমি হাতের রড বের করে ফেলেছিলাম। কিন্ত হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তার মৃত্যু হয়।
তবে তিনি স্বীকার করেন এনেস্থিসিয়া ভুলের কারণেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
ভৈরব থানার ওসি মো. মোখলেছুর রহমান জানান, ঘটনায় রোগীর বড় ভাই ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দিয়েছে। ডাক্তার আজাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য বর্তমানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভৈরব সার্কেলের পুলিশের এএসপি রেজোয়ান দীপু জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ডা. আজাদকে রাতে থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, রোগীর স্বজনরা থানায় মামলা দিয়েছে। মামলাটি তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
