গুরুদাসপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিখোঁজ নাটক!
Advertisement
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৩১ পিএম
দেলোয়ার হোসেন। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার নাটক করেছিলেন দেলোয়ার হোসেন নামের এক যুবক।
উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের বিয়াঘাট সরদারপাড়া এলাকার মৃত রউফ হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন শনিবার রাতে নিখোঁজ হন।
তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় একই এলাকার মৃত ছইর প্রাং-এর ছেলে লিফা প্রাং ও নজরুল প্রাং এবং লিফা প্রাং-এর তিন ছেলে সানোয়ার হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও বুলু হোসেনের নামে গুরুদাসপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন নিখোঁজ হওয়া দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী বিলকিছ বেগম।
এ ঘটনায় লিফা প্রাং ও তার ভাই নজরুল প্রাংকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গুরুদাসপুর থানায় নিয়ে আসা হয়।
পরে গুরুদাসপুর থানা পুলিশের টানা ১২ ঘণ্টার অভিযানে দেলোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করা হয় উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের চোদ্দমাথা নামক এলাকা থেকে।
প্রতিপক্ষ লিফা প্রাং বলেন, আমাদের ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করেছে দেলোয়ার হোসেন। ২১ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে দেলোয়ারের দোকানে চা খেতে যাই। সেখানে আমার বিল হয় ১০ টাকা। ৫ টাকা বকেয়া রাখার কথা বলতেই দেলোয়ার আমার সঙ্গে অসদাচরণ করে এবং গালাগালি করতে থাকলে আমার ওপর হামলা করে।
তিনি বলেন, একপর্যায়ে এলাকার লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। সেখান থেকে আমি চলে আসি। তখন থেকেই আমি আর ওই দোকানের আশপাশেও যায়নি। কিন্তু হঠাৎ করেই শনিবার দিবাগত রাতে নিখোঁজ হওয়ার নাটক করে দেলোয়ার হোসেন।
লিফা প্রাং বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পেছনে আমাদের দায়ী করে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছিলেন দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী। ক্ষণিকের কথাকাটাকাটির সুযোগে নিজেই নিখোঁজের নাটক করে আমাদের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করিয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দেলোয়ারসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
গুরুদাসপুর থানার ওসি মো. মোজাহারুল ইসলাম জানান, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য নিখোঁজ হওয়ার নাটক করার বিষয় স্বীকার করেছেন দেলোয়ার হোসেন। দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মানুষকে হয়রানি করা ও নিখোঁজ হওয়ার নাটক করার জন্য তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
