ভিডিও ফাঁসের ব্লাকমেইল করায় নিপুণকে হত্যা করে সুমি
Advertisement
পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২০, ১০:২৭ পিএম
জেসমিন আক্তার সুমি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় পরকীয়ার জেরে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ফাঁসের ব্লাকমেইল করার কারণেই প্রেমিক আল কাইয়ূম নিপুণকে হত্যা করে তার প্রেমিকা জেসমিন আক্তার সুমি।
পুলিশের কাছে এমনই স্বীকারোক্তি দিয়েছে জেসমিন আক্তার সুমি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পলাশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ূন কবির জানান, প্রেমিকা জেসমিন আক্তার সুমিকে গ্রেফতার করলে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় সুমি।
নিহত কাইয়ূম নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার গোতাশিয়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তার বাবা বিদেশে থাকায় সে পরিবার নিয়ে নরসিংদীর ভেলানগর এলাকায় তার মা, ভাই, স্ত্রী ও তার ১১ মাসের মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন। নিহত কাইয়ূমের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ভাগ্যেরপাড়া গ্রামের মোকারমের স্ত্রী জেসমিন আক্তার সুমির ২০১২ সালে পরিচয় হয়।
এরপর তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরকীয়া সম্পর্ক চলাকালে নিহত নিপুণ তার মোবাইলে তাদের শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে রাখে। সেই ভিডিও পরিবারকে দেখানো ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে গত ৬ মাস ধরে জেসমিন আক্তার সুমির কাছ থেকে টাকা-পয়সা নেয়া শুরু করে নিপুণ।
নিপুণের ব্লাকমেইলে দিন দিন অতিষ্ঠ হয়ে উঠে সুমি। পরে তাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে সে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩ মার্চ রাত সাড়ে ৯টায় সুকৌশলে নিহত নিপুণকে বাড়িতে ফোন করে আনে শারীরিক সম্পর্ক ও টাকা নেয়ার কথা বলে সুমি। এ সময় জেসমিন আক্তার সুমি পানির সঙ্গে ৫টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে নিপুণকে খাওয়ালে সে অচেতন হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
পুলিশ আরও জানায়, রাত আড়াইটায় সুমি বিছানার চাদর গলায় পেঁচিয়ে নিপুণকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে লাশটি চাদর দিয়ে পেঁচিয়ে বস্তাবন্দি করে বাড়ির সেফটি ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে।
পলাশ থানার ওসি শেখ মো. নাসিরউদ্দিন জানান, এ ঘটনায় নিহতের ভাই জাহিদুল ইসলাম অপু বাদী হয়ে সোমবার রাতে প্রেমিকা জেসমিন আক্তার সুমির নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, নিহত নিপুণ গত ৩ মার্চ সন্ধ্যায় নিখোঁজ হলে তার ছোট ভাই ৪ মার্চ নরসিংদী মডেল থানায় একটি জিডি করেন। পরে মোবাইলের কল লিস্ট বের করে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে প্রেমিকা সুমির মোবাইলের একাধিক যোগসূত্র পায়।
পরে সুমিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেয়া তথ্যমতে সোমবার সন্ধ্যায় নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহেদ আহমেদের নেতৃত্বে পলাশ থানার ওসি শেখ মো. নাসির উদ্দিন ও নরসিংদী মডেল থানার ওসি সৈয়দুজ্জামানসহ পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে সুমির বাড়ির সেফটি ট্যাংকের ভেতর থেকে নিহত নিপুণের বস্তাবন্দি লাশটি উদ্ধার করে।
