সাংবাদিককে না পেয়ে ছেলেকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ
Advertisement
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫১ এএম
খানজাহান আলী থানা। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
খুলনার খানজাহান আলী থানায় করা একটি মামলায় স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক প্রবাহের স্টাফ রিপোর্টার সাইফুল্লাহ তারেককে না পেয়ে তার ১৬ বছর বয়সি ছেলেকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে শহরের গিলাতলা দক্ষিণপাড়ায় বাসা থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সিয়ামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর তাকে সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশারের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।
সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেকের পরিবারের অভিযোগ, ছেলেকে শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি তার স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে পুলিশ। শিশুটি কোনো মামলার আসামি নয়। তারপরও তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়। থানায় অবস্থানকালে তার বাবার নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। এরপর স্থানীয় সাংবাদিকরা এ বিষয়ে তৎপর হলে প্রায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর শিশুটিকে সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক অভিযোগ করেন, মাদক কারবারি শাবানার নিকটাত্মীয় কসাই আরমান শেখ হঠাৎ করে গফ্ফার ফুড মোড়ে গরু জবাই করে বিক্রি শুরু করে। এতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছিল। গফ্ফার ফুড মোড় দোকান মালিক সমিতির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসাবে আমিসহ চারজনের নামে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করেন। থানার ওসি কোনো তদন্ত ও যাচাই-বাছাই ছাড়াই অতিউৎসাহী হয়ে মামলাটি রেকর্ড করেন।
তিনি বলেন, শাবানা নামে এক স্থানীয় নারী মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। মাংস বিক্রেতা আরমান ওই নারীর আত্মীয়। মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য শাবানা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। এ কারণে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে খুলনা শিশু সুরক্ষা জোটের সভাপতি শামিমা সুলতানা শিলু জানান, সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেকের শিশু সন্তানকে আটকের তীব্র নিন্দা জানাই। বাবার দায় শিশু নেবে কেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
খানজাহান আলী থানার ওসি আবুল বাশার শিশুকে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বলেন, শিশুটি সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে। পুলিশকে গালাগাল করেছে। তাই তাকে ধরে আনা হয়েছিল। পরে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের জেলা প্রবেশন কার্যালয়ের মাধ্যমে ৬ মাসের প্রবেশন দিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
এদিকে সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা এবং তার শিশু সন্তানকে আটক করে থানায় দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

