তীব্র হচ্ছে আড়িয়াল খাঁর ভাঙন, অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি বিলীন
jugantor
তীব্র হচ্ছে আড়িয়াল খাঁর ভাঙন, অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি বিলীন

  কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি  

৩০ জুলাই ২০২০, ১৩:৫২:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

তীব্র হচ্ছে আড়িয়াল খাঁর ভাঙন, অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি বিলীন
ছবি: যুগান্তর

আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আলীনগর এলাকার চরহোগলপাতিয়া গ্রামের অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ নদীর তাণ্ডবে ভিটামাটি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই এলাকার সাধারণ মানুষ।

এ ছাড়া নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে শতাধিক বাড়িঘর ও ঐতিহ্যবাহী চরহোগলপাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। হয়তো যে কোনো মুহূর্তে ওই বিদ্যালটিকেও পুরোপুরিভাবে কেড়ে নিতে পারে আগ্রাসী হয়ে ওঠা আড়িয়াল খাঁ নদী।

এতে করে ভয়-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের ৫ গ্রামের মানুষ।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে আড়িয়াল খাঁ নদীভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে চরহোগলপাতিয়া গ্রাম। এ গ্রামের একেবারে পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আড়িয়াল খাঁ নদী। এ গ্রামটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় অবহেলিতভাবে পড়ে আছে।

বিগত দিনেও নদীগর্ভে চলে গেছে এ গ্রামের অনেক গাছপালা, বাড়িঘর ও কয়েকশ একর ফসলি জমি। তখন কেউ এগিয়ে আসেনি এ গ্রামের মানুষের পাশে। বর্তমানে একমাত্র ১৫১নং চরহোগলপাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারপাশেই তীব্র ভাঙনে মাটি সরে গেছে।

এতে করে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিদ্যালয়টি অনেক আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে পুনরায় একের পর এক আড়িয়াল খাঁ নদীর পেটে চলে গেছে আলী তালুকদার, সোবহান তালুকদার ও কামাল তালুকদারসহ প্রায় অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ও ধান, পাটসহ বিভিন্ন প্রকার ফসলি জমি।

ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে শতাধিক বসতবাড়িসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বর্তমানে হোগলপাতিয়া, চর হোগলপাতিয়া, ফুলবাড়িয়া-গজারিয়া ও রাজার চরসহ পাঁচ গ্রামের মানুষ নদীভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

গ্রামের অবহেলিত চরহোগলপাতিয়া গ্রামের মানুষেরা বর্তমানে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো প্রকার ত্রাণও পাননি। পানিবন্দি হয়ে কাজকর্ম না করতে পেরে এখন খাদ্যাভাবে দিন কাটাতে হচ্ছে অনেকের। কিন্তু দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারিভাবে কোনো ব্যবস্থা না নেয়া হলে পুরো চরহোগলপাতিয়া গ্রাম যে কোনো মুহূর্তে বিলীন হতে পারে।

চরহোগলপাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধ করা না গেলে অচিরেই হয়তো আমাদের বিদ্যালয়ের অস্তিত্বই হারিয়ে যাবে।

ক্ষতিগ্রস্ত রহিমা বেগম ও আয়শা বেগমসহ বেশ কয়েকজন বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদী আমাগো ঘড়বাড়ি, জায়গা-জমি সব কেড়ে নিয়ে গেছে। ভাঙনরোধ না করা হলে আমাগো বাকি যা আছে সব নদী চলে যাবে আমরা গ্রামবাসী নদীভাঙনের হাত থেকে বাঁচতে চাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহেদ আলী বলেন, নদীভাঙনে সব বিলীনের পথে চলে যাচ্ছে। আমি চেষ্টা করছি ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে।

আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান মিলন বলেন, স্কুলটি বাঁচাতে ও আড়িয়াল খাঁ ভাঙন বন্ধ করতে বহুবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছি। তবে দুঃখের বিষয় এখনও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে ত্রাণ সহায়তার চেষ্টা চালাচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আড়িয়া খাঁ নদীর তীব্র স্রোতের কারণে কোনো কাজ হচ্ছে না। স্রোতের তোড়ে সব নদীতে চলে যাচ্ছে। স্কুল রক্ষার জন্য সব চেষ্টা অব্যাহত আছে।

তীব্র হচ্ছে আড়িয়াল খাঁর ভাঙন, অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি বিলীন

 কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি 
৩০ জুলাই ২০২০, ০১:৫২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
তীব্র হচ্ছে আড়িয়াল খাঁর ভাঙন, অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি বিলীন
ছবি: যুগান্তর

আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আলীনগর এলাকার চরহোগলপাতিয়া গ্রামের অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ নদীর তাণ্ডবে ভিটামাটি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই এলাকার সাধারণ মানুষ।

এ ছাড়া নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে শতাধিক বাড়িঘর ও ঐতিহ্যবাহী চরহোগলপাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। হয়তো যে কোনো মুহূর্তে ওই বিদ্যালটিকেও পুরোপুরিভাবে কেড়ে নিতে পারে আগ্রাসী হয়ে ওঠা আড়িয়াল খাঁ নদী।

এতে করে ভয়-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের ৫ গ্রামের মানুষ।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে আড়িয়াল খাঁ নদীভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে চরহোগলপাতিয়া গ্রাম। এ গ্রামের একেবারে পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আড়িয়াল খাঁ নদী। এ গ্রামটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় অবহেলিতভাবে পড়ে আছে।

বিগত দিনেও নদীগর্ভে চলে গেছে এ গ্রামের অনেক গাছপালা, বাড়িঘর ও কয়েকশ একর ফসলি জমি। তখন কেউ এগিয়ে আসেনি এ গ্রামের মানুষের পাশে। বর্তমানে একমাত্র ১৫১নং চরহোগলপাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারপাশেই তীব্র ভাঙনে মাটি সরে গেছে।

এতে করে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিদ্যালয়টি অনেক আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে পুনরায় একের পর এক আড়িয়াল খাঁ নদীর পেটে চলে গেছে আলী তালুকদার, সোবহান তালুকদার ও কামাল তালুকদারসহ প্রায় অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ও ধান, পাটসহ বিভিন্ন প্রকার ফসলি জমি।

ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে শতাধিক বসতবাড়িসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বর্তমানে হোগলপাতিয়া, চর হোগলপাতিয়া, ফুলবাড়িয়া-গজারিয়া ও রাজার চরসহ পাঁচ গ্রামের মানুষ নদীভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

গ্রামের অবহেলিত চরহোগলপাতিয়া গ্রামের মানুষেরা বর্তমানে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো প্রকার ত্রাণও পাননি। পানিবন্দি হয়ে কাজকর্ম না করতে পেরে এখন খাদ্যাভাবে দিন কাটাতে হচ্ছে অনেকের। কিন্তু দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারিভাবে কোনো ব্যবস্থা না নেয়া হলে পুরো চরহোগলপাতিয়া গ্রাম যে কোনো মুহূর্তে বিলীন হতে পারে।

চরহোগলপাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধ করা না গেলে অচিরেই হয়তো আমাদের বিদ্যালয়ের অস্তিত্বই হারিয়ে যাবে।

ক্ষতিগ্রস্ত রহিমা বেগম ও আয়শা বেগমসহ বেশ কয়েকজন বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদী আমাগো ঘড়বাড়ি, জায়গা-জমি সব কেড়ে নিয়ে গেছে। ভাঙনরোধ না করা হলে আমাগো বাকি যা আছে সব নদী চলে যাবে আমরা গ্রামবাসী নদীভাঙনের হাত থেকে বাঁচতে চাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহেদ আলী বলেন, নদীভাঙনে সব বিলীনের পথে চলে যাচ্ছে। আমি চেষ্টা করছি ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে।

আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান মিলন বলেন, স্কুলটি বাঁচাতে ও আড়িয়াল খাঁ ভাঙন বন্ধ করতে বহুবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছি। তবে দুঃখের বিষয় এখনও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে ত্রাণ সহায়তার চেষ্টা চালাচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আড়িয়া খাঁ নদীর তীব্র স্রোতের কারণে কোনো কাজ হচ্ছে না। স্রোতের তোড়ে সব নদীতে চলে যাচ্ছে। স্কুল রক্ষার জন্য সব চেষ্টা অব্যাহত আছে।