Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

মাগুরায় যুবদল নেতাকে মাথায় গুলি করে হত্যা

বাস কাউন্টারে পড়ে ছিল রক্তাক্ত দেহ * আমাদেরও মেরে ফেলুক, ওদের খবর দাও-স্ত্রীর বিলাপ

Advertisement

Icon

মাগুরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মাগুরায় যুবদল নেতাকে মাথায় গুলি করে হত্যা

মাগুরায় বুধবার দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা সাকের হোসেনের (ডানে) স্ত্রী-সন্তানদের আহাজারি -যুগান্তর

Advertisement

‘আমার স্বামীকে মেরেছে, আমাদেরও মেরে ফেলুক। ওদের খবর দাও। স্বামীকে ছাড়া দুই মেয়েকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব।’ মাগুরায় যুবদল নেতা সাকের হোসেনের মৃত্যুর খবর পেয়ে এভাবেই বিলাপ করছিলেন স্ত্রী শারমিন খাতুন রুমা। তার আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে সদর উপজেলার পারনান্দুয়ালী গ্রামের বাড়ির পরিবেশ। বুধবার ভোরে মাগুরা বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারের ভেতরে সাকেরকে গুলি করা হয়। তিনি মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পরিবহণটির কাউন্টার মাস্টার।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সাকেরের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী রুমা। তাদের সংসারে রয়েছে ১১ বছরের মেয়ে সামিয়া ও ৬ বছরের মেয়ে মুনতাহা। স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের জড়িয়ে ধরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।

রুমা জানান, ‘ভোর হয়নি তখনো। ফজরের আজান দেওয়ার আগেই ঘুম থেকে উঠে কর্মক্ষেত্র মাগুরা বাস টার্মিনালে গেছেন সাকের। কথা ছিল কাজ শেষে দুপুর ১২টার দিকে বাসায় ফিরবেন। সেখানে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।’ তবে কারা কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই তার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রয়েল এক্সপ্রেসের ঢাকাগামী সকালের বাস ছাড়ার কথা ভোর সোয়া ৫টায়। কিন্তু বাস আসতে দেরি দেখে কাউন্টারে উপস্থিত একমাত্র নারী যাত্রী পাশের বাথরুমে যান। এমন সময় একটি মোটরসাইকেলে দুজন কাউন্টারের সামনে এসে দাঁড়ান। সাইলেন্সার পাইপ না থাকায় মোটরসাইকেল থেকে বিকট শব্দ হচ্ছিল। চালকের পেছনে বসে থাকা একজন কাউন্টারের ভেতরে ঢোকেন। এদিকে বাথরুম থেকে ফিরে ওই নারী যাত্রী দেখতে পান কাউন্টারে মুখ থুবড়ে পড়ে আছেন কাউন্টার মাস্টার সাকের। বিষয়টি জানতে পেরে পার্শ্ববর্তী কাউন্টারের লোকজন এসে তাকে নিয়ে যান মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন ডা. খন্দকার মাইনুল হাসান। তিনি ইসিজি রিপোর্ট দেখে সাকেরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলে স্বজনরা লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলা হয়। স্ট্রোকে তার মৃত্যু হতে পারে এমন ধারণা নিয়ে স্বজনরা সকাল ৭টার দিকে বাড়িতে নিয়ে লাশের গোসলের প্রস্তুতি নেন। এমন সময় মাথার পেছন থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়তে দেখে পুনরায় লাশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে মাগুরা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছুটে যান ঘটনাস্থলে। বাস টার্মিনালে রয়েল কাউন্টারে মেঝেতে রক্ত পড়ে থাকতে দেখেন। পরে মর্গে মাথার ভেতরে একটি গুলি পাওয়া যায়। ওই চিকিৎসক জানান, প্রথমবার হাসপাতালে আনলে শরীরের কোথাও রক্তপাত হতে দেখা যায়নি।

এদিকে শহরে যুবদল নেতা সাকেরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বেলা ১১টার দিকে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ঢাকা রোড বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবরোধ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হত্যাকাণ্ডের মোটিভ উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। জমিসংক্রান্ত একটি বিরোধের কথা জানা গেছে। এছাড়া ঘটনার আগের রাতে শহরের স্বর্ণপট্টি এলাকায় কিছু লোকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত সেই বিষয়টি নিশ্চিত হতে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল ধরে তদন্ত হচ্ছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

প্রশাসনের নাকের ডগায় ভুয়া জার্মান ক্লাব বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা

বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা

যেন হাজারো লাল-বুক টিয়ার বাড়ি

যেন হাজারো লাল-বুক টিয়ার বাড়ি

বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল এক যুগেও বাস্তবায়ন হয়নি সুপারিশ

এক যুগেও বাস্তবায়ন হয়নি সুপারিশ

পানাম ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থায় বাংলাদেশ

অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থায় বাংলাদেশ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম