Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

পানাম ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ

অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থায় বাংলাদেশ

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থায় বাংলাদেশ

Advertisement

বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরগতির প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে মন্দা ও ব্যাংকিং খাতের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিকে ‘অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা’ হিসাবে উল্লেখ করে সংকটের ভয়াবহতা স্বীকার করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পানাম ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ জ্যোতি রহমান। মঙ্গলবার সাপ্তাহিক কাউন্টারপয়েন্ট-এ প্রকাশিত ‘এ স্টেট অব ইকোনমিক ইমার্জেন্সি’ শীর্ষক নিবন্ধে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে দুর্বল বিনিয়োগ, স্থবির প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতিতে আটকে পড়তে পারে।

প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাচ্ছে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে ২০২৮ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ২ শতাংশ করা হয়েছে। সংস্থাটির ধারণা, আগামী দশকেও বাংলাদেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে থাকতে পারে। বিশ্বব্যাংকও ২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০২৮ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ করেছে।

এদিকে ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ করেছে আইএমএফ। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩১ অর্থবছরের আগে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা নেই। বিনিয়োগ পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ ০ দশমিক ৫ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। ২০২৭ ও ২০২৮ অর্থবছরে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ০ দশমিক ৩ ও ১ শতাংশ হতে পারে। দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিয়েও পূর্বাভাস পরিবর্তন করেছে বিশ্বব্যাংক। এপ্রিলে সংস্থাটি ধারণা করেছিল, ২০২৫ অর্থবছরের ২০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ২০২৮ অর্থবছরে দারিদ্র্যের হার ১৯ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়াবে। তবে সর্বশেষ পূর্বাভাসে ২০২৬ অর্থবছরে দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৮ অর্থবছরে ২২ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে, সরকারের রাজস্ব আয় নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি দশকের শেষ পর্যন্ত দেশের রাজস্ব আয় জিডিপির প্রায় ৮ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। এর আগে সংস্থাটি এ হার ১১ দশমিক ৫ শতাংশের কাছাকাছি হবে বলে ধারণা করেছিল। একই সঙ্গে সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় বাড়ছে। ২০২৫ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ পরিশোধে ব্যয় হলেও ২০৩১ অর্থবছরে তা প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

জ্যোতি রহমানের মতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকটের জন্য শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দায়ী নয়। দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সংকট, বিনিয়োগ হ্রাস ও নীতিগত অনিশ্চয়তাও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্যোতি রহমান বলেন, প্রবৃদ্ধির ধীরগতি ও দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। একই সঙ্গে প্রকৃত মজুরি হ্রাস এবং শ্রমবাজারে অংশগ্রহণও কমছে। জ্যোতি রহমান বলেন, বিনিয়োগে মন্দা অব্যাহত থাকলে প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও সরকারের রাজস্ব আয়-তিনটি ক্ষেত্রই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুর্বলতা বাড়ায় ঋণ বিতরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ঋণের চাপে থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতাও কমছে। শুধু মুদ্রানীতি শিথিল করা কিংবা সাময়িক ঋণসহায়তা দিয়ে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।

তিনি ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন, সতর্ক রাজস্বনীতি, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকতা, ভর্তুকি সংস্কার এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার সুপারিশ করেন। তার মতে, সংস্কার কার্যক্রম সফল হলেও দশকের শেষ হওয়ার আগে শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে। তাই অর্থনৈতিক সংকটের ব্যাপকতা প্রকাশ্যে স্বীকার করা, ব্যাংকিং খাতের ক্ষতির হিসাব প্রকাশ এবং ব্যয়সংকোচন নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরুর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জ্যোতি রহমান।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

প্রশাসনের নাকের ডগায় ভুয়া জার্মান ক্লাব বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা

বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা

যেন হাজারো লাল-বুক টিয়ার বাড়ি

যেন হাজারো লাল-বুক টিয়ার বাড়ি

বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল এক যুগেও বাস্তবায়ন হয়নি সুপারিশ

এক যুগেও বাস্তবায়ন হয়নি সুপারিশ

পানাম ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থায় বাংলাদেশ

অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থায় বাংলাদেশ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম