দিনাজপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান পণ্ড
jugantor
দিনাজপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান পণ্ড

  দিনাজপুর প্রতিনিধি   

০১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:১৮:৩৩  |  অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরের খানসামায় বিবদমান দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া আর সংঘর্ষে পণ্ড হয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। পরে পুলিশ এসে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় খানসামা উপজেলার পাকেরহাট বাইপাস এলাকায় চৌধুরী রাইস মিল চত্বরে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে।

বিএনপির অপর একটি পক্ষ আনুষ্ঠানস্থলে এসে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। তারা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার সরিয়ে দেয়ার জন্য চেষ্টা চালায়। এতে আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা বাধা দিতে গেলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে পণ্ড হয়ে যায় অনুষ্ঠান। পরে পুলিশ এসে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এ ঘটনায় কেউ হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ একজন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে। ঘটনা কিছুটা স্বাভাবিক হলে পরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে স্বল্পপরিসরে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল আলম তুহিন বলেন, আহ্বায়ক কমিটির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরীকে আমরা কোনোভাবেই মানি না। তিনি দলের নতুন সদস্য হয়েও টাকার বিনিময়ে দলের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক পদটি বাগিয়ে নেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য নির্যাতিত নেতাকর্মীরা আহ্বায়ক কমিটির প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে আসছেন।

এদিকে ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, টাকা দিয়ে কখনই রাজনীতি হয় না। মানুষের ভালোবাসা এবং দল আমাকে আহ্বায়ক কমিটিতে পদ দিয়েছেন বলেই আমি ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পেয়েছি।

কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করার জন্য নেতাকর্মীদের আগে থেকেই জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে আমাদের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে একটি পক্ষ এসে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। পরে আলোচনা সভার নেতাকর্মীরা তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তারা পালিয়ে যায়। পরে আমরা আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন করি।

তিনি আরও বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা ও কেন্দ্রে বিষয়টি লিখিত আকারে জানাব। দলীয়ভাবে শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এ বিষয়ে খানসামা থানার ওসি শেখ কামাল হোসেন বলেন, ঘরোয়াভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভার অনুষ্ঠানে যে মারামারি বা হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে তা আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই দুটি পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেই। এ বিষয়ে যদি কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ বা মামলা করতে আসে তাহলে আমরা অবশ্যই মামলা গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা করব।

উল্লেখ্য, খানসামা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে পূর্ব থেকেই কমিটির একটি পক্ষ আহ্বায়ক কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে আসছিল।

দিনাজপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান পণ্ড

 দিনাজপুর প্রতিনিধি  
০১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:১৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরের খানসামায় বিবদমান দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া আর সংঘর্ষে পণ্ড হয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। পরে পুলিশ এসে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় খানসামা উপজেলার পাকেরহাট বাইপাস এলাকায় চৌধুরী রাইস মিল চত্বরে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। 

বিএনপির অপর একটি পক্ষ আনুষ্ঠানস্থলে এসে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। তারা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার সরিয়ে দেয়ার জন্য চেষ্টা চালায়। এতে আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা বাধা দিতে গেলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে পণ্ড হয়ে যায় অনুষ্ঠান। পরে পুলিশ এসে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এ ঘটনায় কেউ হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ একজন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে। ঘটনা কিছুটা স্বাভাবিক হলে পরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে স্বল্পপরিসরে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল আলম তুহিন বলেন, আহ্বায়ক কমিটির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরীকে আমরা কোনোভাবেই মানি না। তিনি দলের নতুন সদস্য হয়েও টাকার বিনিময়ে দলের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক পদটি বাগিয়ে নেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য নির্যাতিত নেতাকর্মীরা আহ্বায়ক কমিটির প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে আসছেন।

এদিকে ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, টাকা দিয়ে কখনই রাজনীতি হয় না। মানুষের ভালোবাসা এবং দল আমাকে আহ্বায়ক কমিটিতে পদ দিয়েছেন বলেই আমি ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পেয়েছি।

কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করার জন্য নেতাকর্মীদের আগে থেকেই জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে আমাদের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে একটি পক্ষ এসে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। পরে আলোচনা সভার নেতাকর্মীরা তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তারা পালিয়ে যায়। পরে আমরা আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন করি। 

তিনি আরও বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা ও কেন্দ্রে বিষয়টি লিখিত আকারে জানাব। দলীয়ভাবে শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এ বিষয়ে খানসামা থানার ওসি শেখ কামাল হোসেন বলেন, ঘরোয়াভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভার অনুষ্ঠানে যে মারামারি বা হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে তা আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই দুটি পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেই। এ বিষয়ে যদি কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ বা মামলা করতে আসে তাহলে আমরা অবশ্যই মামলা গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা করব।

উল্লেখ্য, খানসামা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে পূর্ব থেকেই কমিটির একটি পক্ষ আহ্বায়ক কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে আসছিল।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন