গাভীর ওলান প্রদাহ কী? এটি এড়াতে খামার ব্যবস্থাপনা কেমন হবে?
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১১:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ওলান প্রদাহ (মাস্টাইটিস) হলো গাভী বা ছাগলের ওলানের একটি সংক্রামক ও ক্ষতিকর রোগ, যা প্রধানত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। স্ট্যাফাইলোককাস (Staphylococcus) ও স্ট্রেপ্টোককাস (Streptococcus) জাতীয় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বাঁটের ছিদ্র দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। গোয়ালঘর বা শেডের মেঝে স্যাঁতসেঁতে, ভেজা ও ময়লা-আবর্জনাযুক্ত থাকলে, হাত বা মেশিন দিয়ে ভুল নিয়মে বা অসম্পূর্ণ দুধ দোহন করা এবং ওলান বা বাঁটে কোনো ধরনের কাটা-ছেঁড়া বা আঘাত লাগলে ওলান প্রদাহ হয়।
লক্ষণ
- ওলান লাল হয়ে ফুলে যায়;
- ওলান শক্ত ও গরম হয় এবং এতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়;
- দুধের গুণগত মান পরিবর্তিত হয়; দুধ ছানার মতো ছাকা ছাকা হতে পারে;
- দুধের সঙ্গে রক্ত বের হতে পারে, অথবা দুধের রঙে অস্বাভাবিকতা দেখা যেতে পারে;
- রোগ গুরুতর হলে ওলান ও বাঁট নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং গাভীর দুধ উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়;
- দুধের উৎপাদন সামগ্রিকভাবে কমে যায়;
- দুধে জীবানুর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
রোগ নির্ণয়
- হাত দিয়ে স্পর্শ করে ওলান শক্ত, গরম বা ফুলে আছে কিনা তা দেখা।
- দুধে পুঁজ বা রক্ত আছে কি না তা দেখা। রঙ ও ঘনত্ব পরীক্ষা করা।
- কালার প্লেট বা কাপে প্রথম ধারার দুধ নিয়ে দলা পাকানো বা অসামঞ্জস্যতা লক্ষ্য করা।
- ক্যালিফোর্নিয়া ম্যাস্টাইটিস টেস্ট (CMT) একটি সহজ ফিল্ড টেস্ট। কেমিক্যালের সাহায্যে দুধে সোমাটিক কোষের (Somatic Cell) পরিমাণ পরীক্ষা করে রোগ শনাক্ত করা হয়।
- দুধে উপস্থিত নির্দিষ্ট জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করার জন্য ল্যাবরেটরিতে কালচার টেস্ট করা।
চিকিৎসা
খুব দ্রুত রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। বিলম্বে এ রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ নিয়ে -
- উন্নতমানের Antibiotic ইনজেকশন দিতে হবে মাত্রা মতো ৪-৫ দিন;
- উন্নতমানের প্রদাহনাশক বা স্টেরওয়েড জাতীয় ইনজেকশন দিতে হবে;
- উন্নতমানের Teat infusion আক্রান্ত বাঁটে প্রয়োগ করতে হবে। ২৪ ঘণ্টা পর পর ৩-৪ দিন;
- Povidon Iodin / ভালো মানের জীবাণুনাশক মাত্রামতো পানিতে মিশিয়ে দিনে ২-৩ বার ওলান ধুয়ে দিতে হবে।
ওলান প্রদাহ এড়াতে খামার ব্যবস্থাপনা
১.পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: খামার ও গোয়ালঘর সর্বদা শুকনো এবং পরিষ্কার রাখতে হবে. নিয়মিত জীবাণুনাশক ছিটাতে হবে যাতে মেঝেতে জীবাণু জমতে না পারে।
২.ওলান ও বাঁট ধোয়া: দুধ দোহনের আগে ও পরে হালকা গরম পানি ও অ্যান্টিসেপ্টিক লোশন দিয়ে গাভীর ওলান ও বাঁট ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
৩.সঠিক নিয়ম বা পূর্ণ দোহন: বাঁটে কোনো দুধ অবশিষ্ট না রেখে সম্পূর্ণ দুধ বের করে নিতে হবে. দোহন করার সময় হাত পরিষ্কার রাখতে হবে।
৪.বাঁটের ডিপিথিং (Teat Dipping): দুধ দোহন শেষ হওয়ার সাথে সাথেই প্রতিটি বাঁট অ্যান্টিসেপ্টিক দ্রবণে ডুবিয়ে বা স্প্রে করে জীবাণুমুক্ত করতে হবে, কারণ দোহনের পর বাঁটের ছিদ্র কিছুক্ষণ খোলা থাকে।
৫.স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান: পশুর শোয়ার জায়গা যেন নরম, আরামদায়ক ও শুষ্ক থাকে সেদিকে নজর দিতে হবে। কাদা বা ভেজা জায়গায় বসলে সহজে জীবাণু আক্রমণ করে।
৬. সুষম খাদ্য সরবরাহ: গাভীকে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে যাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকে।
তবে নিজ থেকে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যহার করবেন না। অসম্পূর্ণ চিকিৎসা করলে রোগ দীর্ঘ হতে পারে।
