Logo
Logo
×

Advertisement

ডাক্তার আছেন

ডিমের কুসুম খেলে কি হার্টের সমস্যা বাড়ে?

Advertisement

Icon

বিবিসি বাংলা

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

ডিমের কুসুম খেলে কি হার্টের সমস্যা বাড়ে?

Advertisement

ডিম পুষ্টিকর খাবার হিসেবে পরিচিত। শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক—প্রায় সব বয়সের মানুষের খাদ্যতালিকায় ডিম রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। 

তবে ডিম নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের কিছু প্রশ্ন ও ভুল ধারণাও রয়েছে। বিশেষ করে ডিমের কুসুম খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে কি না, এতে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি হয় কি না—এ নিয়ে অনেকেরই উদ্বেগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের কুসুমকে একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ডিমের সাদা অংশের পাশাপাশি কুসুমেও শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে।

ডিমে কী কী পুষ্টি আছে?

ডায়েটারি কনসালট্যান্ট ও পুষ্টিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. অরুণ কুমারের মতে, একটি ডিমে প্রায় ৬০ ক্যালোরি এবং ছয় গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে। ডিমের প্রোটিনকে উচ্চমানের বলা হয়, কারণ শরীর এটি সহজে শোষণ ও ব্যবহার করতে পারে।

প্রোটিনের পাশাপাশি ডিমে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। বিশেষ করে ডিমের কুসুমে পাওয়া যায় কোলিন, যা স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভবতী নারী এবং গর্ভের শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের ক্ষেত্রেও কোলিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কুসুমে লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও রয়েছে। এগুলো চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এ ছাড়া ডিম থেকে ভিটামিন ডি, ফোলেট, আয়োডিন ও বি-ভিটামিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

প্রতিদিন কতটি ডিম খাওয়া যায়?

প্রতিদিন কতটি ডিম খাওয়া উচিত, তার নির্দিষ্ট একটি সংখ্যা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস ও শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী এর পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ সুস্থ মানুষ প্রতিদিন একটি থেকে দুটি ডিম খেতে পারেন। শিশুদের ক্ষেত্রেও বয়স ও খাদ্যাভ্যাস বিবেচনা করে ডিম দেওয়া যায়। গর্ভবতী নারী এবং বয়স্কদের জন্যও ডিম গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস হতে পারে।

যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা শরীরে প্রোটিনের চাহিদা বেশি, তাদের খাদ্যতালিকায় আরও বেশি ডিম থাকতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—দুটি ডিম বলতে শুধু সাদা অংশ নয়, কুসুমসহ পুরো ডিমকেই বোঝানো হচ্ছে।

কুসুমে কোলেস্টেরল থাকলেই কি হার্টের ঝুঁকি বাড়ে?

ডিমের কুসুম নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো কোলেস্টেরল। একটি ডিমের কুসুমে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকতে পারে। এ কারণে অনেকেই মনে করেন, ডিম খেলে রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গিয়ে ধমনিতে চর্বি জমতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার থেকে শরীরে প্রবেশ করা কোলেস্টেরল এবং রক্তে থাকা কোলেস্টেরল এক বিষয় নয়। শরীর নিজেও প্রয়োজন অনুযায়ী কোলেস্টেরল তৈরি করে। খাবার থেকে কোলেস্টেরল গ্রহণ বাড়লে অনেক ক্ষেত্রে শরীর নিজের কোলেস্টেরল উৎপাদন কমিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখে।

ডা. অরুণ কুমারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একজন মানুষ দিনে দুটি ডিম খেলে খাবার থেকে প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল পেতে পারেন। তখন শরীরের নিজস্ব কোলেস্টেরল উৎপাদন কমে যেতে পারে। তাই শুধু ডিমের কুসুমে থাকা কোলেস্টেরলের পরিমাণ দেখেই হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ধারণ করা ঠিক নয়।

এলডিএল কেন গুরুত্বপূর্ণ?

রক্তে কোলেস্টেরলের ধরন ও মাত্রা বোঝার ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন বা এলডিএলকে সাধারণত ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ বলা হয়। রক্তে এলডিএলের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে ধমনিতে প্লাক বা চর্বি জমতে পারে। এতে ধমনি সরু ও শক্ত হয়ে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অন্যদিকে হাই-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন বা এইচডিএলকে ‘ভালো কোলেস্টেরল’ বলা হয়। শরীর থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এইচডিএল ভূমিকা রাখে।

তাই হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু খাবারে কতটা কোলেস্টেরল আছে, সেটিই একমাত্র বিষয় নয়। সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা, শারীরিক পরিশ্রম, ওজন, বয়স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

হৃদরোগীদের জন্য ডিম কি নিরাপদ?

ডা. অরুণ কুমারের বিশেষজ্ঞ মতামত হলো, অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে পরিমিত ডিম খাওয়াকে হৃদরোগের বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখার কারণ নেই। এমনকি হৃদরোগীদের ক্ষেত্রেও ব্যক্তির সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা বিবেচনা করে খাদ্যতালিকায় ডিম রাখা যেতে পারে।

তবে যাদের বংশগতভাবে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। যেমন ফ্যামিলিয়াল হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া একটি বিরল জিনগত সমস্যা, যাতে রক্তে এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এ ধরনের ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারে কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হতে পারে।

কুসুম খেলে জন্ডিস বা কিডনির ক্ষতি হয়?

ডিমের কুসুম খেলে জন্ডিস হয় কিংবা কিডনির ক্ষতি হয়—এমন ধারণারও প্রচলন রয়েছে। তবে ডা. অরুণ কুমারের মতে, এসব ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে ডিমের কুসুম খাওয়াকে জন্ডিস বা কিডনি ক্ষতির কারণ হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই।

সাম্প্রতিক গবেষণাতেও খাবার থেকে পাওয়া কোলেস্টেরল নিয়ে আগের অনেক ধারণাকে নতুন করে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু খাবারের কোলেস্টেরল নয়, বরং পুরো খাদ্যাভ্যাসের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে ডিমের কুসুম কি বাদ দিতে হবে?

সংক্ষেপে বললে, সুস্থ মানুষের জন্য ডিমের কুসুম বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ কুসুমেই ডিমের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। পরিমিত পরিমাণে পুরো ডিম খেলে প্রোটিনের পাশাপাশি কোলিন, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও পাওয়া যায়।

তবে কারও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে, হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে বা বংশগত কোলেস্টেরলজনিত সমস্যা থাকলে খাদ্যতালিকা ব্যক্তিভেদে নির্ধারণ করা উচিত। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

অর্থাৎ, ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল রয়েছে—এটি সত্য। কিন্তু শুধু এই কারণেই কুসুম খেলে হার্ট অ্যাটাক হবে, এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং ব্যক্তির সামগ্রিক স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বিবেচনা করেই ডিম খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ডিমের কুসুম খেলে কি হার্টের সমস্যা বাড়ে?

ডিমের কুসুম খেলে কি হার্টের সমস্যা বাড়ে?

গ্লাস স্কিন: কাঁচের মতো উজ্জ্বল ত্বকের রহস্য কী?

গ্লাস স্কিন: কাঁচের মতো উজ্জ্বল ত্বকের রহস্য কী?

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি যে ১০ মানসিক সমস্যা, শীর্ষে ডিপ্রেশন

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি যে ১০ মানসিক সমস্যা, শীর্ষে ডিপ্রেশন

হজমের সমস্যা দূর করতে খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে যে ৩ ফল

হজমের সমস্যা দূর করতে খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে যে ৩ ফল

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম