সব সংক্রমণ শনাক্তের নতুন কৌশল, বদলে যাচ্ছে রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অজানা রোগের জীবাণু শনাক্ত থেকে শুরু করে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা রোগীর সঠিক চিকিৎসা নির্ধারণ— চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে জিনগত পরীক্ষার একটি পদ্ধতি। মেটাজিনোমিক পরীক্ষা নামের এই কৌশলে নমুনায় থাকা বিভিন্ন অণুজীবের জিনগত উপাদান বিশ্লেষণ করে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসসহ নানা ধরনের জীবাণু শনাক্ত করা যায়। এমনকি আগে কখনো শনাক্ত হয়নি, এমন জীবাণুরও সন্ধান দিতে পারে এটি।
২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস শনাক্তের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল এই প্রযুক্তি। এখন হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ নির্ণয়, জটিল রোগের কারণ খুঁজে বের করা এবং দ্রুত সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এর ব্যবহার বাড়ছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উন্নত জিনগত বিশ্লেষণ প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে মেটাজিনোমিক পরীক্ষা আগের তুলনায় দ্রুত ও সহজলভ্য হয়ে উঠছে। এতে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের তিনটি বড় শহরের ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের একটি দল রহস্যজনক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা বিশ্লেষণ শুরু করেন। রোগীদের সবাই চীনের উহানের হুয়ানান সামুদ্রিক খাবারের বাজারে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পর দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন তারা।
কিন্তু প্রচলিত পরীক্ষায় নমুনাগুলোর জিনগত উপাদানের সঙ্গে আগে পরিচিত কোনো রোগজীবাণুর মিল পাওয়া যাচ্ছিল না। এ অবস্থায় চিকিৎসক ও গবেষকরা মেটাজিনোমিক পরীক্ষার সাহায্য নেন। পরিচিত জীবাণুর উপস্থিতি যাচাই করার বদলে এই পদ্ধতিতে নমুনায় থাকা সব ধরনের অণুজীবের জিনগত উপাদান বিশ্লেষণ করা সম্ভব। ফলে আগে শনাক্ত হয়নি, এমন জীবাণুও খুঁজে বের করা যায়।
পরীক্ষায় দেখা যায়, রোগীদের নমুনায় থাকা জীবাণুর সঙ্গে করোনাভাইরাস পরিবারের ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে। এই পরিবারের ভাইরাস এর আগে মানুষের মধ্যে মারাত্মক নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব ঘটিয়েছিল। এর মধ্যে মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা মার্সের ভাইরাসও রয়েছে। এভাবেই নতুন করোনাভাইরাসের সন্ধান পান বিজ্ঞানীরা। পরবর্তী সময়ে দ্রুত রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা তৈরি, চিকিৎসাপদ্ধতি অনুসন্ধান এবং টিকা উদ্ভাবনের বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় এ আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক নিরঞ্জন নাগারাজান বলেন, আগের মহামারিগুলোর তুলনায় এটি ছিল একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন। রোগের জন্য দায়ী জীবাণু শনাক্ত হওয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য দ্রুত রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল।
মেটাজিনোমিক পরীক্ষার ব্যবহার এখন শুধু মহামারি শনাক্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের জটিল রোগ নির্ণয়েও এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকোর সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও অধ্যাপক চার্লস চিউ এ বিষয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বলেন, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অনেক সময় সংক্রমণ এবং অটোইমিউন রোগ— দুটির জন্যই একসঙ্গে চিকিৎসা শুরু করতে হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর লন্ডনের দুটি হাসপাতালে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীদের ওপর একটি পরীক্ষামূলক গবেষণা চালানো হয়। এতে দেখা যায়, প্রচলিত পরীক্ষায় নিয়মিত শনাক্ত হয় না— এমন রোগজীবাণুর উপস্থিতি প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে মেটাজিনোমিক পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

