Logo
Logo
×

Advertisement

ডাক্তার আছেন

নিয়ম মেনে খেয়েও হৃদরোগ, নেপথ্যে থাকতে পারে ৫ কারণ

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

নিয়ম মেনে খেয়েও হৃদরোগ, নেপথ্যে থাকতে পারে ৫ কারণ

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে এসব মেনে চলার পরও কারও কারও হৃদরোগ হতে পারে। এর পেছনে খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাত্রার অনিয়মের পাশাপাশি বংশগত ও জিনগত কারণও ভূমিকা রাখতে পারে।

চিকিৎসাবিষয়ক আলোচনায় হৃদরোগের নেপথ্যে এমন পাঁচটি কারণের কথা উঠে এসেছে, যেগুলো অনেক সময় আগে থেকে শনাক্ত করা কঠিন।

১. পারিবারিক হাইপার কোলেস্টেরোলেমিয়া

রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার জন্য সব সময় অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার বা ব্যায়ামের অভাব দায়ী নয়। পরিবারে পারিবারিক হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়ার ইতিহাস থাকলে জিনগত কারণে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

রোগটি শনাক্ত না হলে বা যথাযথ চিকিৎসা না পেলে অল্প বয়সেই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

২. হৃৎপিণ্ডের পেশির সমস্যা

জিনগত পরিবর্তনের কারণে হৃৎপিণ্ডের পেশির গঠন ও কার্যক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে কার্ডিওমায়োপ্যাথি নামের রোগ হতে পারে, যা হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিকভাবে রক্ত পাম্প করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

পরিবারে এ ধরনের রোগের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করানো যেতে পারে।

৩. অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা অ্যারিদমিয়া

সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের বিশ্রামকালীন হৃৎস্পন্দন মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার থাকে। হৃৎস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দ বা গতিতে সমস্যা হলে তাকে অ্যারিদমিয়া বলা হয়।


অনেক ক্ষেত্রে এর লক্ষণ বোঝা যায় না। তবে কারও কারও বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সব ধরনের অ্যারিদমিয়া জিনগত কারণে হয় না। তবে এমন উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৪. হৃৎপিণ্ডের জন্মগত ত্রুটি

জন্মগত হৃদরোগের ক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ডের গঠন বা রক্ত চলাচলের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকতে পারে। যেমন, হৃদ্যন্ত্রের বিভিন্ন প্রকোষ্ঠের মধ্যে ছিদ্র থাকা কিংবা রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা হওয়া।

এ ধরনের ত্রুটি গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের বিকাশের সময় তৈরি হতে পারে। কিছু সমস্যা জন্মের পরপরই ধরা পড়ে, আবার কিছু ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে লক্ষণ প্রকাশ পায়।

৫. বংশগত ও জিনগত রোগ

পরিবারে নির্দিষ্ট জিনগত রোগের ইতিহাস থাকলে হৃদ্যন্ত্রের কিছু সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। কিছু ক্ষেত্রে মায়ের অটোইমিউন রোগও গর্ভস্থ শিশুর হৃদ্যন্ত্রের বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে সব জিনগত বা অটোইমিউন রোগের কারণে শিশুর হৃদ্যন্ত্র দুর্বল হয়, এমন নয়। পরিবারে বংশগত হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে সন্তান নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী জিনগত পরীক্ষা বা অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন বিশেষজ্ঞরা।

কখন সতর্ক হবেন?

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হৃদগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে পরিবারে অল্প বয়সে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে কিংবা নিজের বুক ধড়ফড়, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়। বুকে তীব্র ব্যথা বা হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

শিশুদের ওজন কমাতে ওষুধ-অস্ত্রোপচার নয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কড়া নির্দেশনা

শিশুদের ওজন কমাতে ওষুধ-অস্ত্রোপচার নয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কড়া নির্দেশনা

ব্যথানাশক ওষুধ সেবন, কিডনির যে পরিণতি হতে পারে

ব্যথানাশক ওষুধ সেবন, কিডনির যে পরিণতি হতে পারে

দুধ বা চিনি নয়, কফি খাওয়ার অভ্যাসে বিপদ বাড়াচ্ছে অন্য যে উপাদান

দুধ বা চিনি নয়, কফি খাওয়ার অভ্যাসে বিপদ বাড়াচ্ছে অন্য যে উপাদান

চল্লিশের পর মানসিক স্বাস্থ্য এবং এর যত্ন

চল্লিশের পর মানসিক স্বাস্থ্য এবং এর যত্ন

দই খেলে কি কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে?— যা বলছে গবেষণা

দই খেলে কি কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে?— যা বলছে গবেষণা

ওজন কমানোর ওষুধে নখ খুলে যাওয়ার ঝুঁকি, গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

ওজন কমানোর ওষুধে নখ খুলে যাওয়ার ঝুঁকি, গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

আরও পড়ুন

শিশুদের ওজন কমাতে ওষুধ-অস্ত্রোপচার নয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কড়া নির্দেশনা

শিশুদের ওজন কমাতে ওষুধ-অস্ত্রোপচার নয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কড়া নির্দেশনা

কতটা ঘি খাওয়া উচিত?

কতটা ঘি খাওয়া উচিত?

ব্যথানাশক ওষুধ সেবন, কিডনির যে পরিণতি হতে পারে

ব্যথানাশক ওষুধ সেবন, কিডনির যে পরিণতি হতে পারে

মানবদেহে প্রথমবারের মতো স্পাইনাল কর্ড প্রতিস্থাপন

মানবদেহে প্রথমবারের মতো স্পাইনাল কর্ড প্রতিস্থাপন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম