Logo
Logo
×
   

Advertisement

অর্থনীতি

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিটিএমএ প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

বস্ত্রখাতের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

বস্ত্রখাতের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বিটিএমএ সহ-সভাপতি ও যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলামসহ প্রতিনিধি দল। ছবি: যুগান্তর

Advertisement

অর্থনীতিতে প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের অবদানের কথা স্বীকার করে এ খাতের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে সংগঠনটির ২৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশ্বাস দেন। 

প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিটিএমএ’র সহ-সভাপতি ও যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম, শফিকুল ইসলাম সরকার, সংগঠনের সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই সরকার প্রমুখ। রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন, জন বিভাগের সচিব এ. জে.এম. সালাহউদ্দিন নাগরী এবং প্রেস সচিব এ সময় উপস্থিত ছিলেন। 

রাষ্ট্রপতি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও আমরা আমাদের অর্থনীতিকে কাঙিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। বর্তমানে গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ফলে অর্থনীতির খাতগুলোকে পুনর্নিমাণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। 

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, বর্তমান সময়ে জ্বালানি সংকট সব থেকে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। বিগত সময়ে দেশের নিজস্ব গ্যাস ও জ্বালানি অনুসন্ধান ও আহরণ এবং দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো উলে­খযোগ্য উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়নি। 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জ্বালানি সমস্যার সমাধানে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। 

বস্ত্র খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বস্ত্র খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বস্ত্র খাতকে এগিয়ে নিতে প্রতিযোগী দেশগুলোর মতো বাংলাদেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বাস্তবভিত্তিক সমন্বিত নীতি সহায়তা নিশ্চিত  করা প্রয়োজন। 

বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাবনা ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি শিল্পখাতে বিশেষত টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে, যা শিল্পের উৎপাদন কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিল্পের উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি সক্ষমতা সুরক্ষায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের গৃহীত উদ্যোগের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতির কাছে ৫ দফা দাবি

শিল্পের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিটিএমএ রাষ্ট্রপতির কাছে ৫ দফা দাবি জানিয়েছে। এগুলো হচ্ছে- বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানি প্রত্যাহারে এনবিআরের আদেশ বহাল রাখা। এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনযোগ্য কটন সুতা আমদানির পরিমাণ হ্রাস পাবে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি করা প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের সুতার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। 

দ্বিতীয়ত: নন-বন্ডেড শিল্পের ব্যাংক গ্যারান্টিভিত্তিক কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহাল এবং এলডিসি-উত্তরণ-পরবর্তী রপ্তানি সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সব রপ্তানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করা। 

তৃতীয়ত: প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেক্সটাইল এন্ড অ্যাপারেল কম্পিটিটিভনেস পলিসি প্রণয়ন করা; যাতে শুল্ক, কর, জ্বালানি, অর্থায়ন ও রপ্তানি সহায়তাসহ সংশ্লিষ্ট নীতিগুলো সমন্বিতভাবে বিবেচিত হবে। 

চতুর্থত: গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রেখে প্রয়োজনীয় চাপ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। 

পঞ্চমত: বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে কার্যকর নজরদারি, যাচাই ও আইনানুগ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম