পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে পরিচালকদের জবাবদিহি চান বিশেষজ্ঞরা
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দীর্ঘদিন থেকে আস্থা সংকটে দেশের পুঁজিবাজার। এই আস্থা ফেরাতে কোম্পানিতে নিয়োগকরা স্বতন্ত্র পরিচালকদের স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে প্রস্তাবিত করপোরেট সুশাসন বিধিমালা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
আলোচনার বিষয় ছিল : ‘বাংলাদেশে করপোরেট সুশাসন শক্তিশালীকরণ’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার হোসেন সাদাত। আলোচনায় নিয়ন্ত্রকসংস্থা, কোম্পানির পরিচালক, পেশাজীবী, শিক্ষক, বিনিয়োগকারী ও সাংবাদিকরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, সব কোম্পানির আকার, ব্যবসা ও ঝুঁকি এক নয়। তাই সবার জন্য একই ধরনের নিয়ম চাপিয়ে না দিয়ে কোম্পানির ধরন ও সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বিএসইসি কমিশনার হোসেন সাদাত বলেন, বিভিন্ন পক্ষের মতামত ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। একইসঙ্গে যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সীমিত সম্পদ ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের অধিকার রক্ষা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে গঠনমূলক মতামতের ভিত্তিতে চলতি বছরের মধ্যে একটি বিনিয়োগবান্ধব করপোরেট সুশাসন কাঠামো প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, পুঁজিবাজারে আস্থা বাড়াতে স্বাধীন পরিচালকদের স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জারিন মাহমুদ হোসেইন বলেন, নতুন বিধিমালা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেনের সংজ্ঞা ও মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি স্পষ্ট করতে হবে। টেকসই অর্থায়ন ও পরিবেশ-সামাজিক বিষয়ক তথ্য প্রকাশের জন্যও একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা দরকার।
করপোরেট সুশাসন বিশেষজ্ঞ লোপা রহমান বলেন, পরিচালনা পর্ষদ ও নেতৃত্বের কার্যকারিতা নির্ধারণের জন্য আগে থেকেই স্পষ্ট মানদন্ড থাকা দরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধ্যাপক ও ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবীন বলেন, প্রতিষ্ঠানের ধরন ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিচালনা পর্ষদকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ এ মামুন বলেন, কোম্পানির ভিন্নতা বিবেচনায় রেখেই সুশাসনের সুস্পষ্ট মানদন্ড নির্ধারণ করা দরকার। ইনস্টিটিউট অব ইন্টারনাল অডিটরস বাংলাদেশের সভাপতি এম নুরুল আলম পরিচালকদের পেশাগত জ্ঞান ও কোম্পানির ব্যবসা সম্পর্কে বাস্তব ধারণার ওপর গুরুত্ব দেন। একইসঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলেন।
আইসিএবির এনফোর্সমেন্ট, তদন্ত ও শৃঙ্খলা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক আফসিন বাতেন বলেন, এ ধরনের লেনদেন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে স্পষ্ট মূল্যায়ন পদ্ধতি থাকা দরকার। বক্তারা বলেন, কোন লেনদেনকে সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেন হিসেবে বিবেচনা করা হবে, সেটি স্পষ্ট হওয়া দরকার। পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদ ও নিরীক্ষা কমিটি যেন এসব লেনদেন সহজে শনাক্ত ও যাচাই করতে পারে, সে ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) সভাপতি মনির হোসেন বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় পরিচালকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
সিএমজেএফের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বলেন, কোম্পানিগুলোর নিয়ম পরিপালনে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করা জরুরি। পাশাপাশি সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার রক্ষায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

