বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমা এবং মার্কিন ডলারের দর দুর্বল হয়ে পড়ায় স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াবে কিনা, তা নিয়েও বাজারে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৯ দশমিক ৯৯ ডলারে দাঁড়ায়। এতে সপ্তাহজুড়ে দাম বাড়ার পথে রয়েছে মূল্যবান এই ধাতু। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১৫ দশমিক ৩০ ডলারে লেনদেন হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমে আসায় শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না তার দেশ। একই সময়ে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলছে। এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
জেফরিজের মালিকানাধীন ট্রেডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাস বলেন, তেলের দাম কমে আসায় চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে যুক্তি জোরালো হচ্ছে। এতে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং বন্ডের মুনাফার হারও সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা নেমেছে। এমন পরিস্থিতি স্বর্ণের দাম পুনরুদ্ধারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
মার্কিন ডলারের দর দুর্বল হলে অন্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়তে পারে।
তবে জাবুরাস সতর্ক করে বলেন, স্বর্ণের বাজারে এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত রয়েছে। বাজারে এখনো ফেডের সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে এবং বন্ডের মুনাফার হারও তুলনামূলক বেশি। এসব কারণে স্বর্ণের দাম আবারও কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে স্বর্ণ ধরে রাখার আকর্ষণ কমে যায়। কারণ, স্বর্ণ থেকে সুদ বা নিয়মিত আয় পাওয়া যায় না। বিপরীতে সুদযুক্ত সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ে।
বৃহস্পতিবার সেন্ট লুইস ফেডের প্রেসিডেন্ট আলবার্তো মুসালেম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আবারও সুদের হার বাড়াতে হতে পারে। তবে চলতি মাসের বৈঠকে নীতিনির্ধারকদের কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
এর আগে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বসম্মতিক্রমে নীতিসুদ শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়েছিল। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে বর্তমানে অক্টোবরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ১৯ শতাংশ ধরা হচ্ছে। আর ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ।
এদিকে, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। শুক্রবার স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৯০ দশমিক ৪৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৬২ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
