আয়কর রিটার্ন না দিলে যে ঝামেলায় পড়তে পারেন
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সময়মতো আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানা গুনতে হতে পারে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। শুধু তা-ই নয়, কর কর্মকর্তারা চাইলে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মতো রাষ্ট্রীয় পরিষেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থাও নিতে পারেন। এছাড়া অতিরিক্ত কর দেওয়া এবং বেতন-ভাতা পেতে জটিলতায় পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
দেশে ১ কোটি ২০ লাখের মতো কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএনধারী) আছেন। সেই হিসাবে ৭৮ লাখ আয়কর রিটার্ন জমা দেননি।
তবে টিআইএন থাকলেই যে সবার আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, তা নয়। আইন অনুযায়ী, করযোগ্য আয় থাকলে রিটার্ন দিতে হয়। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি ৪৫ ধরনের সেবা নিতে রিটার্ন জমার প্রমাণ দেখাতে হয়।
নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে পাঁচ ধরনের ঝামেলায় পড়তে পারেন করদাতারা। এগুলো হলো—
১. জরিমানা হবে
আয়কর আইনের ২৬৬ ধারা অনুসারে শর্ত সাপেক্ষে জরিমানা আরোপ করা যাবে। করদাতার সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্যকৃত করের ১০ শতাংশ হারে জরিমানা আরোপ করা হয়, যা সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা। এছাড়া ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করা হয়।
২. বাড়তি কর বসবে
নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে প্রতি মাসে আরোপিত করের ওপর ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।
৩. গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন
পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে। শুধু বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন নয়, গ্যাস, পানিসহ যেকোনো রাষ্ট্রীয় পরিষেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কর কর্মকর্তাদের।
৪. বেতন পাওয়া নিয়ে ঝামেলা
সরকারি–বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বেতন–ভাতার একটি নির্ধারিত সীমা দিয়ে আয়কর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে বেতন–ভাতা পাওয়ায় জটিলতা হতে পারে।
রিটার্ন দেন না কেন
১. পৌনে চার লাখ টাকার কম আয়
৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার কম আয় হলে রিটার্ন দিতে হয় না। তবে নির্দিষ্ট কিছু সেবা পেতে রিটার্ন জমার কপি দেখাতে হয়। তাই অনেকে করযোগ্য আয় না থাকা সত্ত্বেও রিটার্ন দিতে বাধ্য হন।
২. হয়রানির শঙ্কা
সাধারণ করদাতাদের মধ্যে কর নিয়ে একধরনের ভীতি আছে। তাদের শঙ্কা—একবার করজালে ঢুকে গেলে প্রতিবছরই কর দিতে হবে।
৪. জটিল হিসাবপদ্ধতি
করের হিসাব–নিকাশও বেশ জটিল। একজন সাধারণ নাগরিক বা স্বল্পশিক্ষিত করদাতার পক্ষে এই হিসাব–নিকাশ করা কঠিন।
২. করহার বেশি
বাংলাদেশে করহার তুলনামূলক বেশি। এই করহার ৫ থেকে ২৫ শতাংশ। যাদের তিন কোটি টাকার ওপরে সম্পদ আছে, তাদের করের ওপর সারচার্জ দিতে হয়।
