Logo
Logo
×
   

Advertisement

বিনোদন

ভারত আজও কিছুটা পিতৃতান্ত্রিক: শ্রেয়া ঘোষাল

Advertisement

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

ভারত আজও কিছুটা পিতৃতান্ত্রিক: শ্রেয়া ঘোষাল

ভারতীয় সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল। ফাইল ছবি

Advertisement

বিশ্বজুড়ে যখন টেলর সুইফট বা রিহানার মতো নারী সংগীতশিল্পীরা মিউজিক চার্টের শীর্ষে রাজত্ব করছেন, ঠিক তখনই ভারতের বিনোদন জগতের চিত্রটা ঠিক উল্টো দিকে। গায়ক অরিজিৎ সিং কিংবা র্যাপার বাদশাহদের ভিড়ে গায়িকারা আজ কোথায়? ভারতীয় সমাজব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে পিতৃতন্ত্র, যার কালো ছায়া আষ্টেপৃষ্টে রেখেছে সংগীত জগতকেও। সম্প্রতি রাজ শমানির পডকাস্টে এসে আফসোসের কথা শোনালেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল— ‘ভারত আজও কিছুটা পিতৃতান্ত্রিক।’

বৈষম্য নিয়েই সরব গায়িকা মনে করিয়ে দিলেন যে, ভারতের সংগীতের ইতিহাস সবসময় এমন ছিল না। শ্রেয়া ঘোষাল বলেন, ‘লতা মঙ্গেশকর কিংবা আশা ভোঁসলের জামানায় তারা পুরুষ গায়কদের চেয়েও অনেক বেশি প্রভাবশালী ছিলেন। বছরে তাদের গানের সংখ্যা ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু গত ১০ বছরে সেই ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।’ তিনি বলেন, বর্তমান ইন্ডাস্ট্রি এক চরম বিভ্রান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

শ্রেয়া ঘোষাল বলেন, এ বিভ্রান্তি কাটতে সময় লাগবে। তবে তিনি দমে যাওয়ার পাত্রী নন। বর্তমানে তিনি তার ‘The Unstoppable’ ওয়ার্ল্ড ট্যুর নিয়ে ব্যস্ত, যেখানে যুক্তরাজ্য, আমেরিকা এবং আরব আমিরশাহিতে পারফর্ম করবেন। এ গায়িকা বলেন, ফিউশন আর এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমেই আবার গায়িকাদের সেই হারানো গৌরব ফিরে আসবে।

পরিসংখ্যানের তথ্য দিয়ে বোঝালেন কেন তিনি উদ্বিগ্ন। শ্রেয়া বলেন, ‘টপ ১০ ছেড়ে দিন। টপ ৫০-এর তালিকায় গেলেও দেখবেন সেখানে বড়জোর ছয় থেকে সাতজন গায়িকার গান আছে। বাকি সব পুরুষ কণ্ঠ।’ বড় বাজেটের গান বা আইটেম সংয়ের বাইরে নারী শিল্পীদের জন্য গান তৈরির প্রবণতা কমছে। এ গায়িকা বলেন, ‘চিকনি চামেলি’র মতো গানে কণ্ঠ দিলেও এখন তিনি এ ধরনের গান থেকে দূরে থাকতে চান। 

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে জন্ম শ্রেয়া ঘোষালের। মাত্র চার বছর বয়স থেকেই মায়ের কাছে গানের তালিম শুরু করেন তিনি। পরে রাজস্থানের রাওয়াতভাটায় বড় হয়ে ওঠা এবং প্রথাগত হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের শিক্ষাগ্রহণ। ২০০০ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে জি টিভির রিয়েলিটি শো ‘সারেগামাপা’-তে অংশ নেন এবং বিজয়ী হন।  

সেখানেই বলিউড পরিচালক সঞ্জয়লীলা বানসালির নজরে আসেন শ্রেয়া ঘোষাল। বানসালি তার ড্রিম প্রজেক্ট ‘দেবদাস’-এ  সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের (পারো) কণ্ঠ হিসেবে শ্রেয়াকে সুযোগ দেন। ‘ডোলারে ডোলা’ বা ‘বৈরী পিয়া’-র মতো গানে তার কাজ রাতারাতি তাকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়। প্রথম সিনেমাতেই জিতে নেন ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড। আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি এ গায়িকাকে। 

প্রায় আড়াই দশক ধরে শ্রেয়ার কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ আসমুদ্র হিমাচল। লতাপরবর্তী জামানায় গোটা দেশের সবচেয়ে পছন্দের গায়িকার তালিকায় একদম উপরের দিকে রয়েছেন এ বাঙালি কন্যা শ্রেয়া ঘোষাল।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম