‘আমার ক্যারিয়ার ধ্বংসের চেষ্টা করছেন কেন?’—প্রশ্ন তানজিন তিশার
Advertisement
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
মডেল ও অভিনেত্রী তানজিন তিশা।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মডেল ও অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে তাকে আগামী ২৩ নভেম্বর আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছেন আদালত। এর মধ্যেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ ও আইনি জটিলতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মুখ খুলেছেন তিশা। তার প্রশ্ন, দীর্ঘদিনের সম্মান, ক্যারিয়ার ও অর্জন নষ্ট করার চেষ্টা কারা করছেন এবং কেন করছেন।
ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে দুটি শাড়ি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর ছবির কোলাজ যুক্ত করেছেন এই অভিনেত্রী। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, তার একটি বক্তব্যের রেকর্ড থেকে নিজেদের সুবিধামতো অংশ কেটে মূল বক্তব্যের অর্থ পরিবর্তন করা হয়েছে। পরে সেটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে তার সম্মানহানির চেষ্টা চলছে।
পোস্টে তানজিন তিশা লেখেন, ‘এত বড় একটা পরিকল্পনা? একজন মানুষের এত বছরের সম্মান, ক্যারিয়ার আর অর্জন ধ্বংস করে দেওয়ার এমন বিশাল ঘৃণ্য প্রচেষ্টা? কেন? কিসের জন্য? আর এর পেছনে কারা?’
কোনো অভিযোগ উঠলেই কাউকে দোষী ধরে নেওয়া যায় কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অভিনেত্রী। তার মতে, অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়; বরং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় অনেক প্রশ্নের উত্তর ও তথ্যপ্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিশা। তবে সেসব তথ্যপ্রমাণ জনসমক্ষে তুলে ধরার দায়িত্ব আদালতের, নাকি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার—তা নিয়েও প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।
জনসাধারণের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিশা বলেন, কোনো অভিযোগ সামনে এলেই যাচাই-বাছাই ছাড়া তা বিশ্বাস করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আদালত ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
শাড়ি নিয়ে একের পর এক মামলা
তানজিন তিশাকে ঘিরে শাড়ি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত গত বছরের অক্টোবরে। অনলাইন পোশাক বিক্রির প্রতিষ্ঠান অ্যাপোনিয়ার স্বত্বাধিকারী বিলকিস ওয়াজির অভিযোগ, ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি জামদানি শাড়ি প্রচারণার শর্তে তিশাকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রচারণা না করার পাশাপাশি শাড়ির দামও পরিশোধ করেননি তিনি। তবে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিশা। তার দাবি, শাড়িটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় করা প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের আরেকটি শাড়ি নিয়ে তিশার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নারী উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন ডিজাইনার সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তিশা তার কাছ থেকে শাড়িটি নিয়েছিলেন। পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি। শাড়িটি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছিলেন তিনি।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিশাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। তবে তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষের নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ অক্টোবর আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।
এর এক দিন পর, ২৬ অক্টোবর, আগের মামলাটি প্রত্যাহার করতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন সানায়া চৌধুরী। বাদীপক্ষের অভিযোগ, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহার না করলে তাকে বাংলাদেশে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একের পর এক অভিযোগ ও মামলার মধ্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তানজিন তিশা প্রশ্ন তুলেছেন, তার দীর্ঘদিনের সম্মান ও পেশাগত অর্জন ক্ষতিগ্রস্ত করার পেছনে কারা রয়েছেন এবং তাদের উদ্দেশ্য কী।

