ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টালিপাড়ায় ৭ নভেম্বর ছিল বিশেষ দিন। কারণ একই সঙ্গে দুই নায়িকার জন্মদিন। তাও আবার বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও অভিনেত্রী রাইমা সেন। যাদের ঘিরে রয়েছে কতশত ভক্ত-অনুরাগী। এবার সেই ভক্ত-অনুরাগীদের আগ্রহ— রাইমা সেনের জন্মদিনে কী বলবেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।
রাইমা সেনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এ বর্ষীয়ান অভিনেত্রী বললেন, আমার আর রাইমার একই দিনে জন্মদিন। তাই আমরা খানিক একরকম। আমরা দুজনেই খুবই মিশু। মানুষের সঙ্গে খুব তাড়াতাড়ি বন্ধুত্ব করি, মিলেমিশে যাই। আমরা আসলে পরিবারের মতোই হয়ে গেছি।
তিনি বলেন, মুনমুন সেন আমাকে খুব ভালোবাসেন। এত সুন্দর তিনি। আমি আর রাইমা যখন ‘অনুরণন’ করলাম, তখন আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব অনেক গাঢ় হয়ে গিয়েছিল। আমরা দুজনে ভীষণ মজাও করেছি। মানে, ওটা আমাদের কাছে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছবি। ওই ছবি নতুনভাবে সিনেমাকে চেনাল। ওই পুরো সফরটা— আমি, রাহুল, রাইমা, টনিদা (অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী)— সবাই মিলে একসঙ্গে চিত্রনাট্য পড়া হতো।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, আমার কিছু ভালো দেখলে ও সবসময় জানায়। আমিও তাই। কাজ নিয়েও কথা হয়। ও মাঝেমধ্যে বলেও— তোমার এটা করা উচিত। আমরা এই কিছু দিন আগেই একটা ওয়েব সিরিজ করলাম, হিন্দিতে। খুব শিগগির ওটা আসছে। এখন বলছি না কোনটা। শুটিংয়ের সময়েও ওর বাড়িতে নৈশভোজ সারলাম।
অভিনেত্রী বলেন, ওর মনটাও ভীষণ ভালো, খুব শিশুসুলভ মন। আমার মা আর ওর বাবা, এ নভেম্বরেই চলে গেছেন। আমার মায়ের মৃত্যুর পর প্রথমে রাইমাই এসেছিল আমার সঙ্গে দেখা করতে। সঙ্গে মুনমুন সেনও এসেছিলেন। আমাদের হয়তো প্রতিদিন দেখা হয় না, কিন্তু কোথাও একটা বন্ডিং আছে।
তিনি বলেন, আমরা প্রচুর পার্টিও করি। একবার আমরা একসঙ্গে— সঞ্জয়, আমি, রাইমা, রিয়া— সবাই মিলে খুব মজা করেছিলাম। রাইমা আবার সঞ্জয়কে বলছিল— ‘এখন বউয়ের সঙ্গে বেশি রোমান্স করতে হবে না। চলো এখন পার্টি করতে।'
এ বর্ষীয়ান অভিনেত্রী বলেন, যখন ‘নিশিযাপন’ করেছিলাম, একসঙ্গে এত ঘুরেছিলাম আমরা যে, শুটিংয়ের সময়ে সন্দীপ রায়কে দীপঙ্কর দে বলেছিলেন— ‘এদের দুজনকে একই সিনেমাতে আর নেওয়া যাবে না।’ মানে, এত দেরি করে আমরা সেটে আসছি, খালি মোমো খেয়েই যাচ্ছি দুজনে। আর সেই মোমো খেতে গিয়েই দেরি হয়ে গেছে। ও আর আমি বেশ একসঙ্গে অনেকগুলো সিনেমা করেছি।
তিনি বলেন, ওর বাবা আমাকে খুব ভালোবাসতেন। রাইমা ভীষণ প্র্যাঙ্ক করে। আসলে জীবনকে দেখার ধরনটা ওর আলাদা। ওরা দুই বোনই আমাকে খুব ভালোবাসে। কিছু দিন আগে আমার ছেলে এসেছিল। ওরা নিজেরা পার্টি করেছে অঙ্কনের সঙ্গে। অঙ্কন ওদের সঙ্গে খুব মজা করেছে। অঙ্কনকে আবার মুনমুন সেন একটা খুব সুন্দর বই উপহার দিলেন। এই ভালোবাসা, এই স্নেহ— এইটা আমার কাছে একটা বড় প্রাপ্তি।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, আমাদের মনে হয় যে, বন্ধুত্ব আর ভালোবাসা দিয়েই সম্পর্কটা সারাজীবন থাকবে। ও খুব প্রাণবন্ত। ওকে শুভেচ্ছা। এখন জীবনে যেন ও সবকিছু পায়। ও যখন যে কাজটা করে, সেটা খুব মন দিয়ে করে। শুধু আমার মনে হয় যে, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ওর একটু ভেবে নেওয়া উচিত। আমি চাই ওর জীবনে খুব তাড়াতাড়ি একজন ‘প্রিন্স চার্মিং’ আসুক।
এ অভিনেত্রী বলেন, ওর ক্যারিয়ারের জন্য ওকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছি। আমার মনে হয়, এখনো ওর অনেক সময় আছে। এরপরও নিশ্চয়ই খুব ভালো ভালো কাজ পাবে।

