বয়কট ঘোষণা করে আমারে ফ্রেন্ডলিস্টে রাইখা দিছে: পরীমনি
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকাই সিনেমার আলোচিত-সমালোচিত নায়িকা পরীমনি মানেই নতুন কোনো চমক আর বিতর্কের ঢেউ। আদালতে সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় চারদিকে যখন তাকে ঘিরে সমালোচনার জোয়ার বইছে, তখন ঠিকই ফেসবুকে এক অভিনব খোঁচা দিয়ে বসলেন এই নায়িকা।
বয়কটের ডাক দিয়েও তাকে ফেসবুকের ফ্রেন্ডলিস্টে ঝুলিয়ে রাখায় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পরীমনি।
রোববার (৮ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন এই চিত্রনায়িকা। সেখানে তিনি লেখেন, ‘এদের এ কেমন বয়কটের ধরন! বয়কট ঘোষণা করে আমারে ফ্রেন্ডলিস্টে রাইখা দিছে।’
যদিও নেটিজেনদের নজর কাড়ার কিছুক্ষণ পরেই সেই রহস্যময় স্ট্যাটাসটি হঠাৎ করেই আবার মুছে ফেলেন তিনি। তবে ততোক্ষণে সেই পোস্টটির স্ক্রিনশট ঠিকই ছড়িয়ে পড়ে।
মূলত গত ৫ নভেম্বর ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পান পরীমনি। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংবাদকর্মীদের বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘ব্যাড টাচ’-এর অভিযোগে ওই সাংবাদিককে হেনস্তা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে পরীমনি ও তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে দেশের মূলধারার সাংবাদিক সংগঠনগুলো। মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ), এমআরইউ, ডিআরএফ ও ইয়ুথ জার্নালের মতো সংগঠনগুলো পরীমনির এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাকে বয়কটের ঘোষণা দেয়।
সাংবাদিকদের এই কঠোর অবস্থানের আঁচ গিয়ে লাগে শোবিজ অঙ্গনেও। এর রেশ ধরেই চট্টগ্রামে অনুষ্ঠেয় ‘চট্টগ্রাম ফ্যাশন ভ্যানগার্ড অ্যাওয়ার্ড’-এর অতিথি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় পরীমনিকে।
এর আগে গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিজের ফেসবুকে সেই ইভেন্টের পোস্টার শেয়ার করে ‘দেখা হচ্ছে প্রিয় চট্টগ্রাম’ ক্যাপশনও দিয়েছিলেন এই নায়িকা। কিন্তু সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামের আসর থেকে তার নাম বাদ দিতে বাধ্য হন আয়োজকরা। ইভেন্টের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর খালেদ সুমন নিজেই গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে পরীমনির এই কাণ্ড নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া এখন সরগরম দুই পক্ষে। একপক্ষ মনে করছে, ভিড়ের মধ্যে শিল্পীদের নিরাপত্তা রক্ষা করা কঠিন হলেও সংবাদকর্মীদের সঙ্গে এমন আচরণ কাম্য নয়। অন্যপক্ষ আবার পরীমনির পাশে দাঁড়িয়ে নারীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরছেন।
যদিও সাধারণ মানুষের বেশিরভাগই পরীমনির অশালীন ভাষার ব্যবহার ও আচরণ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন।

